সামনে নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ্য করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

সামনে নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ্য করা হবে না: ওবায়দুল কাদের

পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে প্রথমে শাসানো ও পরে মিটমাট করে দিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, সামনে নির্বাচন, অভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ্য করা হবে না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত দূরত্ব দূর করে নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সিদ্ধান্ত—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিরোজপুর জেলায় ক্ষমতাসীন দলের বিবদমান কোন্দল দূর করতে বৃহস্পতিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের ছাড়াও কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এদের মধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আওয়ালের বিরুদ্ধে একাট্টা জেলার বেশিরভাগ নেতা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগের একেএমএ আউয়াল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন। একাদশ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই আসনে বর্তমানে আওয়ামী লীগে বিরাজ করছে গৃহদাহ। নিজ দলেই একাধিক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে আউয়ালকে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আউয়ালকে আগামীতে দলীয় মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে তার আপন ভাই হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে। মালেক পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র ও দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি। বড় ভাই আউয়ালের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে মেয়র মালেক নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন নানাভাবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমএ হাকিম হাওলাদার, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, আওয়ামী সমবায় লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুর রহমান ছগির ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবিএম বায়েজীদ।

ওবায়দুল কাদের পিরোজপুর জেলার নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনারা একে অন্যের বিরুদ্ধে যে সমালোচনার রাজনীতি করেন, সে পরিমাণ রাজনীতি আমাদের অন্যতম প্রতিপক্ষ বিএনপির বিরুদ্ধে করেন না। আপনাদের একে অন্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা বন্ধ করতে হবে। শৃঙ্খলা বজায়ের রাজনীতি করতে হবে। তা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বৈঠকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতারা সবার কথা শুনেছেন। পরে উভয় পক্ষকে মিলিয়ে দিয়েছেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করতে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পিরোজপুর জেলার সমস্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের বক্তব্য শুনেছেন। জেলার নেতাদের বক্তব্যের পর সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সবাইকে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এর মধ্যদিয়ে পিরোজপুরে ঐক্যবদ্ধ হবে আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালীও হবে। তবে কার্যকর না হলে আগে যা ছিল রাজনৈতিক পরিবেশ তেমনটাই থাকবে।’

জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএমএ আওয়াল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠক করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘জেলা নেতাদের মধ্যে থাকা দূরত্ব দূর করা হয়েছে বৈঠক থেকে।’