শিবির অপবাদে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতিকে মারধর

শিবির অপবাদে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতিকে মারধর
প্রজন্মের আলো ডেস্ক:
ভাইয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নতুন ভবনে এই ঘটনা ঘটে। আহত রুহল আমিন এখন একটি বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রুহুল আমিনের বড়ভাই ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিমের শাশুড়ির মরদেহ নিতে রুহুল আমিন তার ভাবি ও কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের লিফটে ওঠেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের বড় ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে সঞ্জিতের কয়েকজন অনুসারীও লিফটে ওঠেন। ওভার লোডের কারণে রুহুল আমিন সঞ্জিত চন্দ্র দাসের কিছু অনুসারীকে লিফট থেকে নেমে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এতে সঞ্জিতের ভাইয়ের সঙ্গে রুহুলের কথা কাটাকাটি হয়। পরে সঞ্জিত গিয়ে সাত তলায় ভাইয়ের শাশুড়ির লাশের সামনে রুহুল আমিনকে কয়েকটা থাপ্পড় দেন।
ঘটনার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর সঞ্জিত চন্দ্র দাসের অনুসারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের জগন্নাথ হল, শহিদুল্লাহ হল, মুহসীন হল, সূর্যসেন হলের ২৫-৩০ নেতাকর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনের ৮ তলায় উঠে রুহুলকে খুঁজে বের করে। তারা রুহুল আমিনকে ৮ তলা থেকে মারতে মারতে নিচ তলায় নামায়। এ সময় নিচে থাকা সঞ্জিত চন্দ্র দাসের সব অনুসারী মিলে তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে।
ঘটনার পর রাত ২টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ঢাকা মেডিকেল কলেজে যান। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে গোলাম রাব্বানীকে রুহুল আমিন বলেন, ‘সঞ্জিত নিজেই তাকে মারতে মারতে ৮ তলা থেকে নিচে নিয়ে আসে। মারার পাশাপাশি তাকে শিবির বলে অপবাদ দেয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে ঢামেক থেকে ক্যাম্পাসে আসার পথে শহীদ মিনারের কাছে এসে রুহুল আমিন বমি করতে থাকেন। পরে তাকে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাক্তারের পরামর্শে তার সিটি স্ক্যান করা হয়। ভোররাতে তাকে সেন্ট্রাল হসপিটালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার তাকে রিলায়েন্স মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি আমার পরিচয় দিয়েছি। বলেছি লাশ নিতে এসেছি। তবুও ওরা আমাকে শিবির বলে মারধর করেছে। এত বছর ছাত্রলীগ করে যদি এই লজ্জা পেতে হয় তাহলে কার জন্য ছাত্রলীগ করলাম, কিসের জন্য ছাত্রলীগ করলাম?’
ঘটনার বিষয়ে জানতে সঞ্জিত চন্দ্র দাস ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমার ভাবি প্রেগন্যান্ট। লিফটে ওঠা নিয়ে রুহুল ভাই নাকি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিছে। আমার ভাইয়েরও কলার ধরে মারতে গেছে। সঙ্গে দুই একটা হলের পোলাপান ছিল। ওরা ঝামেলা করছে। আমি হলে ছিলাম শোনার পরে আমি সবাইকে বাইরে নিয়ে এসেছি। আমি চলে আসার পরে শুনলাম ওইদিকে ভাইকে কারা মারছে।
আপনি নিজে মারছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা কথা। আমি ছিলামই না। ভিডিও ফুটেজ দেখে বের করুক আমি মারছি।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা অভিযুক্তকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিস দিব। সাতদিনের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে জবাবদিহি করতে হবে। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।’