চোরাবালিতে বিএনপি: খালেদা-তারেকের কপাল পুড়লেও লাভবান হবেন মির্জা ফখরুলরা

চোরাবালিতে বিএনপি: খালেদা-তারেকের কপাল পুড়লেও লাভবান হবেন মির্জা ফখরুলরা

নিউজ ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি করে ১০ বছর করেছেন উচ্চ আদালত। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের সাজায় দণ্ডিত হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়সহ একাধিক মামলায় সাজার দণ্ড নিয়ে লন্ডনে পলাতক জীবন যাপন করছেন তারেক রহমান।

বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা গেছে, দেশের রাজনীতিতে বিএনপির দু’জন প্রধান চরিত্র অনুপস্থিত থাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে বিএনপির হাল কে ধরবেন সেটি নিয়ে দলটির অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে গভীর সংকট। এদিকে বিপদের দিনে ড. কামালকে বিএনপির মিত্র ভেবে ঐক্যফ্রন্টে মির্জা ফখরুলের সরব উপস্থিতি নিয়ে বিএনপির মধ্যে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। এরইমধ্যে দলটির বিভিন্ন শ্রেণির নেতার মুখে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তবে কি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে পেছনে ফেলে আসল বিএনপি গঠন করছেন মির্জা ফখরুলরা? বিএনপির পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির কবর রচিত হলো ঐক্যফ্রন্টের ফাঁদে পড়ে?

এমন নানা প্রশ্নে বিভক্তিও দেখা দিয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে। খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলরা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন- এমন বিষয়গুলো নিয়ে যে শঙ্কা ছিলো শেষ পর্যন্ত সেসব শঙ্কা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে বলেও দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড. কামালদের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে উপায়হীন হয়ে বিএনপির একটি অংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং বাকি অংশটি মূল দলকে আঁকড়ে ধরে রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস হবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাশেদা রওনক খান মনে করেন, বিএনপি ড. কামালের আইনি বুদ্ধির মারপ্যাঁচে পড়ে দু’কূল হারাবে এবং শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ দলের নেত্রী বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের সাথে বেইমানি করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তিনি বলেন, বিএনপির বর্তমান অবস্থা অভিভাবকহীন পরিবারের মতো। অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা যে যার মতো কাজ করছেন। দীর্ঘদিন নেতৃত্ব শূন্যতায় ভোগা বিএনপি ড. কামালকে ত্রাণকর্তা ভাবছে। কিন্তু বিএনপির নেতারা বুঝতে পারছেন না, ড. কামাল কাদের ইশারায় শেষ বয়সে বিপ্লব করতে নেমেছেন। সেই বোধ জাগ্রত হতে হতে দলটি ভেঙ্গে ছোট ছোট উপদলে পরিণত হবে বলে আমি মনে করি। বিএনপি ড. কামালের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ঐতিহাসিক ভুল করেছে। চোরাবালিতে পা দিয়েছে বিএনপি। ড. কামালদের প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে বিএনপিকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। আমি বিএনপিতে বিভক্তি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। মির্জা ফখরুলরা ক্ষমতার আশায় নির্বাচনে যাবেন, বাকিরা নির্বাচন বর্জন করবেন। এমনকি খালেদা জিয়াও কিন্তু জেলেই থাকবেন এবং তারেক রহমানের পলাতক জীবন দীর্ঘায়িত হবে।

মির্জা ফখরুলদের ভুলের কারণে বিএনপির পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ইতি ঘটছে বলে মন্তব্য করে সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, রাজনীতির গোলকধাঁধায় আটকা পড়েছে বিএনপি। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির কারণে জনরোষের শিকার বিএনপি বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য ড. কামালকে নেতা মানছে। যা বিড়ালের গাছে ওঠার মতো ব্যাপার। এই রাজনীতি ও নির্বাচনী খেলায় শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়বেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি বাদ দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে বেশি মাতামাতি করছে। এতে করে বোঝা যায়, খালেদা জিয়া নয়, মির্জা ফখরুলদের কাছে ক্ষমতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি হাস্যকর এবং একইসঙ্গে বেদনাদায়কও। আমার ভয় হচ্ছে এই ভেবে যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। একটি অংশ খালেদা ও তারেককে ভুলে গিয়ে ক্ষমতার স্রোতে নিজেদের ভাসিয়ে দেবে এবং বাকি অংশটি নেত্রীর মুক্তির জন্য অপেক্ষা করতে করতে অকর্মণ্যতা ও আন্দোলন বিমুখতার জন্য জনপ্রিয়তা হারিয়ে নাম সর্বস্ব দলে পরিণত হবে । তাতে কপাল পুড়বে খালেদা-তারেকের। লাভবান হবেন মির্জা ফখরুলরা।