দোহার-নবাবগঞ্জ আসনে যেভাবে জয়ী হতে পারেন সালমান এফ রহমান

দোহার-নবাবগঞ্জ আসনে যেভাবে জয়ী হতে পারেন সালমান এফ রহমান

নিউজ ডেস্ক:

নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে ১০ ডিসেম্বর (সোমবার) থেকেই। দেশের সবগুলো সংসদীয় আসনের মতো ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনেও বেশ চাঞ্চল্যকর অবস্থা তৈরি হয়েছে। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের কারণে বাড়তি মনোযোগ কাড়ছে সবার। এ আসনে জয় পেতে ৩ জন প্রার্থী তাদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবেন। প্রার্থীরা হলেন- সালমান এফ রহমান, খন্দকার আবু আশফাক ও সালমা ইসলাম।

ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক। গত শুক্রবার বিএনপি ২০৬ জনের চূড়ান্ত মনোনয়নের যে তালিকা প্রকাশ করে সেখানে তার নাম ছিল না। দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করায় ওই তালিকায় তিনি ছিলেন না বলে জানা যায়। পরে ইসিতে আপিল করে প্রার্থিতা ফেরত পান আশফাক। এরপর গত রোববার তার মনোনয়ন নিশ্চিত করে বিএনপি। অন্যদিকে, এই আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন সালমান এফ রহমান। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন সালমা ইসলাম।

ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলাম এবং সালমান এফ রহমানের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা। কারণ বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে এলাকার এমপি না হয়েও ব্যাপক দুর্নীতি করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে দোহার স্কুল কমিটির নির্বাহী সদস্য হালিমা হায়দারের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কেরও গুঞ্জন ছিলো। এছাড়া নবাবগঞ্জ ও দোহারে প্রতিটি স্কুল-কলেজ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট তৈরির ক্ষেত্রে কমিশন বাণিজ্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এ কারণেই বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোট ব্যবধানে হারতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছে ঢাকা-১ আসনের এলাকাবাসী।

ঢাকা-১ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৭৪ তম আসন। আসনটির মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪০৭ জন। স্বাধীনতার পর থেকে ৯০ এর আগে পর্যন্ত এই আসনে কোন দলেরই একক আধিপত্য ছিল না। তবে ১৯৯১ সাল থেকে টানা ৩টি নির্বাচনে জিতে এই আসনটিকে নিজের রাজত্ব বানিয়ে ফেলেন বিএনপির সাবেক নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে সেই রাজত্বের অবসান ঘটে। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে জয় পান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মান্নান খান। তিনি বিএনপির আবদুল মান্নানকে প্রায় ৩৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। দুই দশক পর আসনটির দখল পায় আওয়ামী লীগ। তবে ২০১৪ সালে তা আবারো হাতছাড়া হয় তাদের।

এর আগে সালমান এবং সালমা দুজনই ঢাকা-১ আসন থেকে একবার করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে সালমা আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান খানকে পরাজিত করেন। অন্যদিকে, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির নাজমুল হুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন সালমান এফ রহমান। এরপর পেরিয়ে গেছে অনেকগুলো বছর। বিএনপি থেকে বেরিয়ে নাজমুল হুদা আলাদা দল গঠন করেছেন। এই নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১ আসনে সালমান এফ রহমানকে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।