আওয়ামী লীগ নেতাদের শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি

আওয়ামী লীগ নেতাদের শেখ হাসিনার হুঁশিয়ারি

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা অস্ত্রবাজি করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করেন—তা না হলে কঠোরভাবে এসব অস্ত্রবাজদের দমন করা হবে।

পাশাপাশি দলীয় পদ ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে আসীন আছে তাদেরকে আত্ম অহমিকা ও ক্ষমতার জোরে অর্থ ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ার জন্যও আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে যুবলীগ প্রসঙ্গে আলোচনার অবতারণা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক। বৈঠকের এজেন্ডায় উল্লেখ থাকা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দল যথাযথ মর্যাদায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করতে চায়। কিন্তু নেত্রী খোদ এটাতে অনীহা প্রকাশ ও অপছন্দ করেন। এক্ষেত্রে নানক যুবলীগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচীর কথা উল্লেখ করেন।

পরে দলের আওয়ামী লীগের সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও এ কথা উল্লেখ করে বলেন, শনিবার যুবলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা করেছে। তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিসের টাকা বৈধ করতে মিলাদ মাহফিল করা হয়েছে। তার জন্য এমন মিলাদ মাহফিল দরকার নেই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এখন দিনের বেলায় প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিঁয়ে চলেন। এসব বন্ধ করতে হবে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে বের হয়নি, অস্ত্র উচিয়ে প্রতিবাদ করেনি। যখন দলের দুঃসময় ছিল তখন কেউ অস্ত্র নিয়ে দলের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। এখন টানা তিনবার সরকারে আছি। অনেকের অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু আমার সেই দুর্দিনের কর্মীদের অবস্থা একই আছে। যারা অস্ত্রবাজী করেন, যারা ক্যাডার পোষেণ, তারা সাবধান হয়ে যান, এসব বন্ধ করুন। তা না হলে যেভাবে কঠোরভাবে জঙ্গী দমন করা হয়েছে, একইভাবে এইসব অস্ত্রবাজদেরও দমন করা হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, একটি কথা মনে রাখতে হবে- আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। কাজেই আমাদের দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলনটা যাতে নিয়মিত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের যে উপ-কমিটিগুলো আছে তাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

এদিকে জাতীয় সম্মেলনের দিনক্ষণ ঘোষণায় গণভবনে বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় নেতাদের মাঝেও উৎফুল্লতা ও খোশমেজা দেখা যায়। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৩ অক্টোবর এই কমিটির তিনবছর পূর্ণ হবে। ২০১৬ সালের ওই সম্মেলনে টানা অষ্টমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।