শ্রমিকদের ক্ষতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত : এমপি ইসরাফিল

শ্রমিকদের ক্ষতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত : এমপি ইসরাফিল

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের এবং প্রবাসী শ্রমিকদের যে ক্ষতি হয়েছে তার সুষ্ঠু তদন্ত করে, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলেছেন নওগাঁ -০৬(আত্রাই-রাণীনগর) এর স্থানীয় সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয় পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের সভাপতি ও পার্লামেন্টারিয়ানস্‌ ককাস অন মাইগ্রেশন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট এর চেয়ারম্যান মোঃ ইসরাফিল আলম এমপি।

সম্প্রতি মালেশিয়াতে কিছু ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের মধ্যস্থতায় আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, মালয়েশিয়াতে ইন্দোনেশিয়া নেপাল শ্রীলঙ্কা ভারত এবং বাংলাদেশের শ্রমিকরা অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছে। মালয়েশিয়ান সরকার কোন দেশের সাথে নির্দিষ্ট কিছু রিক্রুটিং লাইসেন্স হোল্ডার বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জনশক্তি আমদানি করে না।

শুধুমাত্র বর্তমান অ্যাম্বাসেডর শহিদুল হক সাহেবের পোস্টিং হওয়ার পর জিটুজি প্লাস নামে গতবারে কোম্পানির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি আমদানির ব্যাপারে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় অভিবাসন ভিত্তিতে একটি কার্যক্রম শুরু করেছিল কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে অনৈতিক ও অবৈধ ও নীতিহীন কাজ সম্পাদন করার জন্যই ৩৭ হাজার টাকার কথা বলা হয়েছিল যা পরে সাড়ে তিন চার সাড়ে চার লক্ষ টাকায় উন্নত হয়।

এমতাবস্থায় তৎকালীন নাজিব রাজাক সরকারের পরাজয় হলে এবং মাহাথির মোহাম্মদ এর নেতৃত্বে সরকার ক্ষমতায় আসলে তারা এই সিন্ডিকেট পদ্ধতিকে অবৈধ দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করে বাতিল করে দেয় একইসাথে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি আমদানি বন্ধ করে দেয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা হলেও সিন্ডিকেট পদ্ধতিকে পরিবর্তন করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণ এবং অভিবাসন বাই কমিয়ে জনশক্তি প্রেরণ বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। ইতিমধ্যে অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছিল।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য উন্মুক্ত করতে সম্মতি প্রদান করেন। এর ধারাবাহিকতায় মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব ইমরান আহমেদ চৌধুরী এসেছেন এবং তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মালয়েশিয়ার কিছু ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের মধ্যস্থতায় আলোচনা করছেন, মিটিং করছেন। সোমবার বিকাল বেলা এনআইডি কার্ড তৈরীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আভাস দিয়েছেন মালেশিয়ার গভমেন্ট যদি চায় তাহলে সিন্ডিকেট না করে সম্ভব।

জানা যায়, গত বারের ৩০টি নির্দিষ্ট লাইসেন্স এর মাধ্যমে সিন্ডিকেট হতে যাচ্ছে এবং তার পিছনে সেই পূর্বের সিন্ডিকেটের নেপথ্য নায়ক আমিন স্বপন গঙ্গা যারা সরাসরি এখনো তারেক জিয়া এবং বিএনপির সাথে জড়িত তাদের নিয়ন্ত্রণে এই কাজটি হতে যাচ্ছে।

এরফলে অভিবাসন ব্যয় এত বেশি হয়, জনগণের হয়রানি কোন পর্যায়ে যায়, বাংলাদেশ থেকে মানুষে কতটা কবির হোসেন ভাইয়ের নামে পাচার হয় তার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ তিক্ত অভিজ্ঞতার বোঝা কাঁধে নিয়ে কেন এই অপতৎপরতা চলছে এটা একটা বিষয় কারণ এই উদ্যোগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে না।

মালয়েশিয়ান সরকারের মধ্যে অভিশংসন এটাকে প্রত্যাখ্যান করবে এবং দেশের আইনের শাসনের পক্ষে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে সেই অভিযান কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করবে এই বিষয়টি সাংবাদিকদের মধ্যে অবিলম্বে জানানো হোক।

তিনি আরও বলেন, আমরা নিজেদেরকে যতই জ্ঞানী,বুদ্ধিমান মনে করিনা কেন? সাধারণ জনগণ কিন্তু সহজ-সরল ভাবে সঠিক সত্যটাকে উপলব্ধি করে এবং প্রকাশ করে।

মালেশিয়ার প্রবাসীদের সাথে আলোচনায় যে বলিষ্ঠ ও অভিন্ন দাবি হলো-

১. বাংলাদেশের যে সমস্ত শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় বন্দী অবস্থায় আছে তাদেরকে দ্রুত কারামুক্ত করা হোক!

২. যারা অবৈধভাবে পলাতক হয়ে ভীতিযুক্ত জীবন কাটাতে গিয়ে, বন্ডেড লেবারের মত, দাসত্ব বৃত্তের ন্যায় কাজ করছেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন ,এই বিশাল সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশী শ্রমিকদের কে বৈধ করণ করা হোক এবং

৩. গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নেপাল,শ্রীলংকা ও ইন্ডিয়ার মত নামমাত্র ও অভিবাসন ব্যয় এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কর্মী আনা হোক। সেখানে কোনো সিন্ডিকেট বা অনৈতিক,বেআইনি কিংবা বৈষম্যমূলক কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য যে, রিয়ারিং এর মাধ্যমে বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় গতবারে ৬০০০ থেকে ৭০০০ রিঙ্গিত জমা দিয়েও প্রায় দেড় লক্ষ অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক এখনও বৈধ হতে পারেনি, টাকাও ফেরত পায়নি,আবার দেশে ফেরত যেতে পারেনি।

তারা এখন অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে, এদের বিষয়ে সরকারের জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। দশটি রিক্রুটিং লাইসেন্স এর মাধ্যমে গতবারে যে সিন্ডিকেট গঠন করা হয়েছিল তাদের মাধ্যমে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা করে খরচ করে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় এসেছিল।

এদের মধ্যে অধিকাংশই খারাপ কোম্পানির ভিসা পাওয়ার কারণে সঠিক বেতন পায়নি এবং যে কাজ পাওয়ার কথা ছিল সেই কাজ পায়নি,তাই বাধ্য হয়ে জীবিকার প্রয়োজনে তারা কোম্পানি বদল করেছে এবং পরিস্থিতিগত কারণে অবৈধ হয়ে পড়েছে।

এদের দায়দ্বায়িত্ব ওই সিন্ডিকেট গ্রহণ করেনি এবং এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে যারা মালয়েশিয়ায় এবং বাংলাদেশে কাজ করেছিল সরকারের পক্ষ থেকে, তারাও কেউ এদের পাশে দাঁড়ায়নি। শুধু মাঝখানে কয়েক হাজার কোটি টাকা গ্রামীণ জনগণের কাছ থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে,

যা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের ও প্রবাসী শ্রমিকদের ক্ষতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করেন -নওগাঁ -০৬(আত্রাই-রাণীনগর) এর সংসদ সদস্য মোঃ ইসরাফিল আলম এমপি।