সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধায় প্রচণ্ড বৈষম্য

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধায় প্রচণ্ড বৈষম্য

সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও প্রচণ্ড বৈষম্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় বৈষম্য পদমর্যাদার।

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষকরাও কেন্দ্রীয়ভাবে ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের’ (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগ পাচ্ছেন। একই সিলেবাস ও কারিকুলামে পাঠদান করলেও বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান আকাশ-পাতাল।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কেবল মূল বেতনটুকুই সমান, বাকি সব ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন তারা।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বড় অংশই আবার এমপিওভুক্ত নন। দেশের ২৬ হাজার বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পৌনে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী প্রতি মাসে সরকার থেকে মূল বেতন পান। সঙ্গে দেওয়া হয় নামমাত্র বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসাভাতা। তাদের বর্তমানে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী মূল বেতনের শতভাগ বেতন দেওয়া হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় মাত্র এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া। এটি নির্ধারিত। অর্থাৎ বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। চিকিৎসাভাতা নির্ধারিত মাত্র ৫০০ টাকা।

আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা টাইম স্কেল পেতেন। তাও পুরো চাকরি জীবনে মাত্র দু’বার। বর্তমানে টাইম স্কেল বন্ধ। ঈদ অথবা পূজা-পার্বণে বোনাস হিসেবে সরকারি শিক্ষকরা মূল বেতনের শতভাগ পেলেও বেসরকারি শিক্ষকরা উৎসব ভাতা হিসেবে পান মূল বেতনের মাত্র ২৫ ভাগ আর কর্মচারীরা ৫০ ভাগ অর্থ।

জানা গেছে, ১২ হাজার টাকা এবং ১৬ হাজার টাকা স্কেলে নিয়োগকৃত সহকারী শিক্ষকদের পরবর্তী বেতন স্কেল নির্ধারণ করা নেই। বেসরকারি শিক্ষকদের সরাসরি প্রমোশন এবং বদলিও নেই।

বেসরকারি শিক্ষকদের কোনো বিভাগীয় ভাতা নেই। দীর্ঘকাল চাকরি করার পর তাদের অনেকটা শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরে যেতে হয়। এককালীন সামান্য অবসর ভাতার ব্যবস্থা আছে, কিন্তু মাসিক পেনশন নেই। বেসরকারি শিক্ষকদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য ব্যাপক ব্যয় করতে হয়। তাদের সন্তানদের জন্য কোনো শিক্ষা ভাতা নেই।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (নজরুল) সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম রনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় আকাশ-পাতাল বৈষম্য রয়েছে। এ বৈষম্য দূর করা না হলে সার্বিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাত। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় এ খাতের অবদানই অসীম। তাহলে সুযোগ-সুবিধায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা পিছিয়ে থাকবেন কেন? তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে প্রথম বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত হন। সামান্য বেতন-ভাতা নিয়ে যুগ যুগ ধরে শিক্ষকরা পাঠদান করে আসছেন। ১০০ টাকা বাড়ি ভাড়া ছিল প্রায় ৩৫ বছর। এখন এক হাজার টাকা হলেও তা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ অবস্থার অবসান জরুরি।