বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছি

বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছি

বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের এমপি আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

আনোয়ার হোসেন খান প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমৃদ্ধ শিল্পে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যেসব পদক্ষেপ আপনি নিয়েছেন তা দেশিয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসার দাবি রাখে। এ জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাতে চাই। সেই সঙ্গে আপনার কাছে জানতে চাই দেশের বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন শিল্প কারখানা ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কারখানা নতুন চালু করার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

আনোয়ার খান প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে আমরা কতগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছি। কিন্তু কিছু শিল্প এতো পুরনো যে শতচেষ্টা করেও চালু করা যাচ্ছে না। বহু কারখানা আছে যেখান পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, সেখানে এ সকল শিল্পের সঙ্গে নতুন শিল্প স্থাপন বা বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বা উদ্যোক্তা তৈরি হবে। এ বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি।

তিনি বলেন, এখনকার যুগে সকল যন্ত্র আধুনিক ও ছোট। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন শিল্প চালু করা যেতে পারে। কিছু কিছু শিল্প এতই পুরোনো ও রুগ্ণ যে চালুই করা যাচ্ছে না। আমরা কারগরি শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছি। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ভোকেশনাল বা কারিগরি শিক্ষা চালু করছি।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শেখ হাসিনা আরও বলেন, দুর্নীতি সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। সরকারি কর্মচারীসহ অপরাধী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে দলমত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিসহ সরকার সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সারাদেশে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেনো তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ করতে না পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মচারীসহ অপরাধী যেই হোক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে অনুসন্ধান করে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার দেশের জনগণের কল্যাণে ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পাশাপাশি ক্যাসিনো, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও কাজ করছে। ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন ১৬টি ফাঁদ মামলায় ৬৮ জন আসামি গ্রেফতার করেছে। কারা কারা অভিজাত গাড়ি কিনেছে সে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করছে।