কোন দেশে পিয়াজের দাম কত?

কোন দেশে পিয়াজের দাম কত?

অস্থির হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের পিয়াজের বাজার। প্রতিবেশি দেশ ভারত পিয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই দেশের পিয়াজের বাজারে এই অস্থিরতা চলছে।

বর্তমানে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পিয়াজের মূল্য। পাইকারি বিক্রেতারাই এ পণ্যটি ২০০ টাকার কমে বিক্রি করছেন না। খুচরা বাজারে এখন ২২০ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, বর্ধিত মূল্য দিয়েও অনেক স্থানে পিয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশে পিয়াজের এমন আকাশচুম্বী মূল্যে অবাক হয়েছেন প্রবাসীরা। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের যেকোনও দেশের চেয়ে বাংলাদেশে পিয়াজের দাম সর্বোচ্চ। এমনকি আফ্রিকার দেশ উগান্ডা, সুদানেও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম দামে পিয়াজ মিলছে বাজারে।

এর প্রমাণও দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকায় যাওয়া প্রবাসীরা জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেসব দেশে পিয়াজের দাম।

লন্ডন থেকে বাংলাদেশি সাংবাদিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের খুচরা বাজারে পিয়াজের দাম যখন কেজিপ্রতি ২২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, তখন লন্ডনের বাজারে পিয়াজের খুচরা মূল্য প্রতি কেজি বাংলাদেশি টাকায় ৫৫ টাকা।

তবে বড় বড় চেইনশপে ২৫ কেজি পিয়াজের বস্তার দাম ছিল ৮ পাউন্ড। সে হিসাবে এক কেজির মূল্য ৩২ পেন্স, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রতি কেজি ৩৫ টাকা করে পড়ছে।

এদিকে, জার্মানির বার্লিন শহরে পিয়াজের দাম একেবারেই কম। বার্লিনে এখন প্রতি কেজি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ টাকায়!

এ কথা দেশবাসীর বিশ্বাস হবে না বলে বৃহস্পতিবার সেখানে ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। আর সেই লাইভ এখন ভাইরাল।

লাইভে দেখা গেছে, ওই বাংলাদেশি বার্লিনের একটি সুপার স্টোর থেকে পাঁচ কেজি পেঁয়াজের প্যাকেটের দাম লেখা দেখাচ্ছেন ০.৯৯ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯২.২৫ টাকা। 

তিনি বলছেন, এই সময়ে সেখানে ৫০ শতাংশ ছাড়ে মুদি আইটেম বিক্রি হচ্ছে। তাই এই পাঁচ কেজি পেঁয়াজের জন্য তাকে মূল্য পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৬ টাকা। অর্থাৎ এক কেজি পিয়াজের দাম পড়ছে ৯ টাকা ২০ পয়সা!

ইতালির ভেনিসে পিয়াজের দাম বাংলাদেশি টাকায় ৯৫ টাকা। রোমেও প্রায় একই দামে বিক্রি হচ্ছে।

আর স্পেনে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ টাকা করে এক কেজি পেঁয়াজ কেনা যাচ্ছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মামে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকেই জানিয়েছেন সেখানে পিয়াজের দাম প্রতি কেজি বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৫ টাকা।

বাইরাইনের খুচরা বাজারে দুই কেজি পিয়াজ ৫০০ পিলস, বাংলা টাকায় দুই কেজির মূল্য ১০০ টাকায় কিনেছেন বলে জানিয়েছেন সুমন আহমেদ নামের এক বাংলাদেশি।

কুয়েত প্রবাসী লিয়াকত হোসেন জানিয়েছেন, কুয়েত সিটিতে পিয়াজ প্রতি কেজি ১৫০ পয়সা অর্থাৎ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর ওমানের মুদ্রায় প্রতি কেজি পিয়াজ ২.৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ টাকা।

হারুন আব্দুল ওয়াহাব নামের একজন লিখেছেন, তিনি বৃহস্পতিবার ওমানের সালালা থেকে প্রতি কেজি ২০০ পয়সা অর্থাৎ বাংলায় ৪০ টাকা দরে কিনেছেন।

লেবাননে বর্তমানে প্রতি কেজি পিয়াজ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মো. সালাউদ্দিন।

জাহিদ ইকবাল লিখেছেন, কাতারে ২ রিয়াল, যা মুদ্রায় টাকায় ৪৬.৫৫ টাকা।

এদিকে, দুবাইতে ৪৭ টাকায় এক কেজি পিয়াজ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কামরুজ্জামান নামের এক প্রবাসী।

চীনের বেইজিংয়ে প্রতি কেজি পিয়াজ ৪ আরএমবি ( বাংলায় ৩৫ টাকা) দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সাব্বির হোসেন জয় ।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পিয়াজ।

আপন আরেফিন ফেসবুকে লিখেছেন, মালয়েশিয়ায় এখন পাইকারি বাজারে পিয়াজের দর ৩০ টাকা, খুচরা ৬০-৭০ টাকা।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে ১২ রুপিতে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে। মালদ্বীপে পিয়াজের দাম একটু বেশি। প্রতি কেজি ২২ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাজমুল হাসান নামের এক ব্যবসায়ী।

সিঙ্গাপুরে ৫ কেজি ৪.৫০ ডলার বাংলায় প্রায় ৩৬৩ টাকা বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজির মূল্য ৭২.৬০ টাকা। অনেকে বলছেন ৯০ টাকায় তারা পিয়াজ কিনছেন সেখানে।

এদিকে, উগান্ডায় পিয়াজের কেজি ৬০ টাকা বলে জানিয়েছেন সে দেশে অবস্থানরত মো. মিজানুর রহমান।

মুস্তাফিজুর রহমান তাপা জানিয়েছেন, ব্রাজিলে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫০ টাকা কেজি পিয়াজ।

কোয়েল খামার মোংলা নামের একজন ফেসবুকে জানিয়েছেন, মিসরে পিয়াজের কেজি ২৫-৩০ টাকা।

সূত্র: বিডি প্রতিদিন