মুজিব বর্ষ ও মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে কিছু ভাবনা

মুজিব বর্ষ ও মহান স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে কিছু ভাবনা

–ইসরাফিল আলম এমপি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন,
বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি ।

বিখ্যাত দার্শনিক ও বিজ্ঞানী আইনস্টাইন বলেছিলেন,
জ্ঞান সাগরের তীরে বসে জ্ঞানের নুড়ি নিয়ে নাড়াচাড়া করছি ।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন,
বাংলাদেশ সোনার দেশ ।

বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর রাষ্ট্রনায়ক, উন্নয়নের রোল মডেল,
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, দেশরত্ন শেখ হাসিনা বলেছেন,
বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ ।

আর আমার মনে হয়ঃ

শুধু রূপ বৈচিত্র বা প্রাকৃতিক সম্পদ -সমৃদ্ধিতে নয়, বিশাল জনগোষ্ঠীর এই বাংলাদেশ । অজেয় শক্তির অফুরন্ত ও অমিত সম্ভাবনার এক অসাধারণ দেশ বাংলাদেশ । ১৭ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ১000 রাজনীতিবিদ, সামরিক-বেসামরিক আমলা, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, বিচার বিভাগের সম্মানিত বিচারক বৃন্দ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন গবেষক, গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, মুজিব বর্ষ উদযাপন করার সময় ও আমাদের মহান স্বাধীনতার ৫0 বছর উদযাপন করার সময়- নিখাদ, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ইস্পাতকঠিন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ও ঐকান্তিক শপথ নিয়ে কাজ করতে পারেন- তাহলে বাংলাদেশে হবে আগামী পঁচিশ সালের মধ্যে ক্যানাডা, অস্ট্রেলিয়া সহ আমেরিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সমৃদ্ধ যে কয়টি দেশ আছে, তাদের কাছাকাছি একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ । এটা কোন কল্পনাবিলাসী মানুষের বা কবির কল্পনা নয় এর মধ্যে লুকিয়ে আছে কঠিন সত্য এবং মহাসত্য কিছু সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে আছে এবং অঙ্কুরোদ্গম হচ্ছে, তাকে পরিচর্যা করে বৃক্ষ বানাতে হবে, ফলবান বৃক্ষ ।

দেখুন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এর বিষয়টি এবং আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর কে মানব সম্পদে রূপান্তরিত, আমাদের সমুদ্রসীমা সীমার মধ্যে প্রাপ্ত ব্লু ইকোনমির সুযোগ সুবিধা গুলোকে আধুনিক প্রযুক্তিগত ভাবে নিয়ন্ত্রিত, আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ও রাজস্ব আদায়ের সকল শহর সুযোগগুলোকে আর হেলায় না হারিয়ে বা অপচয় না করে, এখনই তার বস্তুনিষ্ঠ আদায় এবং কৌশলগত নীতি অনুসৃত, আত্মসম্মান বদ সম্পূর্ণ পররাষ্ট্র নীতিকে সতর্কতার সাথে বাস্তবায়িত এবং আর্থসামাজিক উন্নয়ন এর গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাণিজ্যিক উন্নয়নকে নিয়ন্ত্রিত/পরিচালিত, রিসার্চ অ্যানালাইসিস শিক্ষা প্রশিক্ষণ চিকিৎসা বিদ্যুতায়ন যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন স্থানীয় সরকার ও কেন্দ্র সরকার পরিচালনার মধ্যে কার ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা গুলোকে সংস্কার মূলক ভাবে সুশাসনের জানালা-দরজা উন্মোচন রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পারস্পারিক সহযোগিতা আস্থা বিশ্বাস ও সম্মানের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠাকরণ নারীর ক্ষমতা মিনিট গতিকে সুরক্ষিত করুন শিশু-কিশোর ও যুব সমাজকে সুনির্দিষ্ট সুস্পষ্ট কত নির্দেশের মাধ্যমে বিতরনের কার্যক্রম গুলোকে যদি বাস্তবায়ন ও কার্যকর করা যায় তাহলে মহান সৃষ্টিকর্তার আলামিন ছাড়া বাংলাদেশের দ্রুত উচ্চ প্রবৃদ্ধির অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক এবং একটি সৃজনশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে কেউ বাধা দিতে পারবে না ।

একটি কথা মনে রাখতে হবে রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু-মিত্র মনে কিছু না থাকলেও ন্যূনতম নীতি-আদর্শ ও আত্মসম্মান আত্মমর্যাদার বিষয়টিকে জলাঞ্জলি দেওয়া যাবে না জানি না আর বন্ধুত্ব পরিবর্তন করা গেলেও প্রতিবেশীকে কিন্তু পরিবর্তন করা যায় না তাই বন্ধুরাষ্ট্রদের সাথে আরও বন্ধুত্ব বেশি বৃদ্ধি করা প্রতিবেশীদের সাথে একটা সুন্দর বোঝাপড়ার ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক কে সবসময়ই ক্রিয়াশীল রাখা,আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় যারা প্রযুক্তিগত দিক থেকে, অর্থনৈতিক দিক থেকে, সম্পদের দিক থেকে, শিক্ষা-দীক্ষার দিক থেকে, গবেষণা ও এনালাইসিস এর দিক থেকে, আমাদের চেয়ে এগিয়ে গেছে- তাদের কাছ থেকে, কিভাবে -অল্প সময়ে,অল্প শ্রমে, অল্প ব্যয়েসর্বোচ্চ সহযোগিতা গ্রহণ করা যায়, সেই ব্যাপারেও আমাদেরকে চিন্তা করে বাস্তবসম্মত স্বল্প মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হতে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য দক্ষ অভিজ্ঞ দূরদর্শী পরিশ্রমই মানব সম্পদ ও জনশক্তি গুলোকে যার যার যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে ।

ইতিমধ্যেই ব্যাংক ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে, আর্থিক সেক্টরের ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অনভিজ্ঞতার কারণে, অদক্ষতার কারণে এবং বিভিন্ন ধরনের অসতর্কতা, উদাসীনতা এবং অতি আত্মবিশ্বাসের কারণে দুর্নীতির বা ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগের সুযোগ নিয়ে, যারা দেশের অর্থ বিভিন্নভাবে করাযত্ব করে- বিদেশে পাচার ও বিনিয়োগ করেছে । যারা দেশের সম্পদ বিদেশে বিভিন্ন দেশে দেশে পাচার করেছে -সে গুলোকে নির্মোহ,নিখুঁত, নিরপেক্ষ, স্বাধীন, তদন্ত অনুসন্ধানের মাধ্যমে ও পুনরুদ্ধার এর মাধ্যমে বিদেশের দেশগুলো থেকে- দেশে ফেরত এনে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে । আর গ্রামীণ উন্নয়নে,গ্রামীণ জনপদের জনগোষ্ঠীর জীবনের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য,যে যেভাবেই বিনিয়োগ করুক না কেন? সেটা শিল্পপ্রতিষ্ঠান ই হোক, সেটা আবাসন খাতে হোক, চিকিৎসা খাতে হোক, শিক্ষা প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে হোক, খেলাধুলার জন্য হোক, সাংস্কৃতিক খাতে হোক, আর যেখানেই হোক না কেন -তার সুযোগ সুযোগ-সুবিধা এই বিনিয়োগকারীদেরকে দিতে হবে এবং উৎসাহিত করতে হবে, ঢাকা শহর থেকে প্রশাসনিক উন্নয়নমূলক বিচারক সেবামূলক কার্যক্রমের যে কর্তৃত্ব এমন নেতৃত্ব আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যে আছে তার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে । নতুন ভাবে ভীতিমুক্ত ভাবে শঙ্কামুক্ত ভাবে এই সুষম উন্নয়ন নীতি প্রশাসনিক নীতি এবং জনকল্যাণমূলকয় একটি প্রগতিশীল নীতি,আমাদের জরুরী ভিত্তিতে মুজিব বর্ষ শেষ হওয়ার আগে এবং মহান স্বাধীনতার 50 বছরপূর্তির অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই গ্রহণ ও চূড়ান্ত করণ করতে হবে । তারপর বাস্তবায়নের জন্য অভিজ্ঞ এবং টেকসই জনশক্তিকে দায়িত্ব অর্পণ কার্যক্রম চালু করা দরকার । ঢাকার মধ্যে বিনিয়োগ করলে উচ্চ কর সরকারকে পরিশোধ করতে হবে,ঢাকার ভিতরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হলে উচ্চ কর ও রাজস্ব সরকারকে দিতে হবে ।

লক্ষ্য যত কঠিন বা জটিল হোক না কেন রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আন্তরিকতার জায়গা যদি শক্ত হয় তাহলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব এর প্রমাণ হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সময়ের যে চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে তা জয় করে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করার আমার মনে হয় অপূর্ব এবং একটি সোনালী সুবর্ণ সুযোগ আমাদের দেশে বিরাজ করছে ।
এই সুযোগে যদি আমরা হেলায় হেলায়, যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারি । ব্যক্তিস্বার্থে, গোষ্ঠীর স্বার্থে, দলীয় স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো শেখ হাসিনার মস্ত অকল্যাণকর চিন্তাকে আমাদের হৃদয়ের মহত্ব, দিয়ে, উদারতা দিয়ে, হৃদয়ের বিশালতা ও কল্যাণ চিন্তা দিয়ে গ্রহণ এবং সমর্থন না করি । তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে নিশ্চয়ই আমাদের জবাবদিহিতার কাঠগড়াই দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ।
১৭ কোটি মানুষের বাজার একটা মস্ত বড় বাজার বর্তমান সমসাময়িক বিশ্ববাজারে তার একটা বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক মূল্য আছে । সেটিতে কিভাবে আমরা ভ্যালু এড করব? তা চিন্তা করার দাবি রাখে । আমরা শুধু ইউরোপ-আমেরিকা কেন এশিয়া দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য আফ্রিকা ল্যাটিন আমেরিকা, রাশিয়া এবং এমন কি চায়না নিয়ে ও ভাবতে পারি । এই বিশাল জনগোষ্ঠীর নিত্য পণ্য,নিত্য ব্যবহার্য পণ্য আমরা কতটুকু সরবরাহ করতে পারি, বিশ্ববাজারে স্বল্পমূল্যের দিক থেকে আমাদের চেয়ে বেশি পারদর্শিতা অন্য কোন রাষ্ট্র বা জনগণের আছে বলে আমরা এখনো খুঁজে পাইনা । চায়না কিন্তু তৈরি পোশাক শিল্প রপ্তানিতে এক নাম্বারে ছিলো, এখন সেখানে শ্রমিকদের উচ্চ মজুরি, শ্রমিকদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের কঠোরতা এবং একই ধরনের কাজ করতে করতে চীনের শ্রমিকদের মধ্যে অনীহা বা বিরক্তির যে ভাব উদ্ভব হয়েছে তা আমাদের জন্য একটি সুযোগ ।

এই সুযোগটি যদি কাজে লাগাতে পারি- বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিক গুলোকে আমরা চায়নাতে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি মজুরি দিয়ে পাঠাতে পারি এবং চায়নার তৈরি পোশাক শিল্প গুলো চালু রেখে তার মাধ্যমে চীনের তৈরি করা গুলোকে কাজে লাগিয়ে, বিশ্ব বাজার গুলো দখল ও তার চাহিদা পূরণ করতে পারি । বাংলাদেশের শ্রমশক্তি গুলোর শ্রমিক হিসেবে গিয়ে তারা চীনের ওই সমস্ত কারখানাগুলোর যারা উদ্যোক্তা আছে -সেই উদ্যোক্তাদের সহউদ্যোক্তা হতে পারি বা অংশীদার হতে পারি ।প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে মূলধনী বা অন্য কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে করতে পারে এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা দিয়ে, সূজনশীল চিন্তাধারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্তিকে যদি বাণিজ্যিক শক্তিতে পরিণত করতে পারা যায় -তাহলে আমাদের অর্থনীতি একটা সময প্রচুর প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক -বাণিজ্যিক ভিত্তি তৈরি করতে পারবে ।

কারণ শুধুমাত্র তৈরি পোশাক শিল্প বা রেমিট্যান্স,চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উপর নির্ভর করে আমাদের আমাদের অর্থনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনা করা চলবে না । আমাদের আরও তিনটি চারটি বিকল্প রপ্তানি পণ্য কিভাবে গুণগত মানসম্পন্ন ভাবে তৈরি করে cost-effectively বিশ্বের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারি তা নিয়ে কেন রিসার্চ এবং এনালাইসিস হচ্ছে না । মার্কেট স্টাডি হচ্ছে না, পাটপণ্যকে যেভাবে বৈচিত্র্যকরণ এর আলোচনা ও কার্যক্রম চলছে । এখানে শম্ভুক গতি অপসারণ করে গতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে । বাম্বু /বাঁশ দিয়ে কিভাবে শিফন শাড়ি তৈরি করে আকর্ষণীয় রং দিয়ে, নকশা দিয়ে,ডিজাইন দিয়ে, আমরা বিশ্বের অর্ধেক নারী সমাজকে আকৃষ্ট করে এই পণ্য গুলো বাজারজাত করতে পারি সেটা নিয়েও ভাবতে হবে । আমাদের মসলিন কাপড়ের, জামদানি কাপড়ের রেশম শিল্পের কাপড়ের যে সুদূর অতীতের সময় থেকে আলোকিত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা চলে আসছে, সেগুলোকে তো পুনরুদ্ধার করা, গুলোকে সংরক্ষণ কর, সেগুলোর উন্নয়ন করা আমাদের শুধু বর্তমান সময়ের দাবি নয়- এটা অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক প্রয়োজনে করতে হবে । কারন আমি আমার চিরচেনা পথে হাঁটতে- চলতে যে স্বাচ্ছন্দ বা ঝুঁকি এড়িয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব, নতুন নতুন পথে, নতুন কর্ম, সেটা কিন্তু অতখানি সম্ভব হয় না ।

একটি বিষয় সত্যি করে বলতে গেলে অনেকেই হয়তো মন খারাপ করবেন,
বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের মালিকরা ব্যবসা-বাণিজ্যের ভেতর দিয়ে অর্থোপার্জন করেছেন উপার্জন ও ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন, বাংলাদেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব মহান জাতীয় সংসদের উল্লেখযোগ্য চেয়ার সরকার পরিচালনার অনেক গুরুদায়িত্ব এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াতে নিজেদের কে সম্পৃক্ত ও প্রতিষ্ঠা করেছেন, এটি আমাদের জন্য দুঃখের বা হিংসা বিদ্বেষ এর কোনো বিষয় নেই ।
কিন্তু মনে রাখতে হবে বাংলাদেশের যতগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে তার মধ্যে, এই পোশাক শিল্পের মধ্যে যে কেমিক্যাল, র মেটেরিয়াল, রং ব্যবহার ও প্রয়োগ করা হয় এবং পরিবেশ বিনষ্টকারী, জীব-বৈচিত্র বিনষ্টকারী, জলবায়ু কে ক্ষতিগ্রস্থকারী উপাদান আছে -তা অন্য কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানে নাই । আজকে ক্লাইমেট ভিকটিম হিসাবে আমরা যে চরম ভালনারেবিলিটি মধ্যে অবস্থান করছি- যে অর্থনৈতিক সামাজিক মানবিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিপদের মধ্যে এগিয়ে যাচ্ছি এর জন্য তো বাংলাদেশের কয়জন মানুষ দায়ী ? উন্নত দেশ আমেরিকার মত, কোরিয়ার মত, জাপানের মত, পোলান্ডের মত, ফ্রান্সের মত আরও অনেক শিল্পোন্নত দেশ অর্থ সম্পদ কামাই করে নিয়ে গেল পরিবেশ ধ্বংস করে । কিন্তু তার নির্মম শিকার কিন্তু আমরা হয়ে যাচ্ছি , এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে, চিন্তা করতে হবে, কারণ যারা জলবায়ু কে ধ্বংস করল জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করল, জলবায়ু কে ক্ষতিকর জায়গায় নিয়ে গেল তারা কিন্তু এই ক্লাইমেট ভিকটিমদের নিয়ে কোন দায়িত্ব গ্রহণ করছে না বা দায়িত্ব গ্রহণ করার বিষয়ে ভাবছে না, এটা কে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বলা হচ্ছে ক্লাইমেট জাস্টিস ।

ক্লাইমেট জাস্টিস এর প্রসঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা শুরু থেকেই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে শক্ত ভাবে কথা বলছেন । বাঙালি জাতি এবং জলবায়ু দ্বারা জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশ ও জাতিকে অনেক সংগ্রাম করতে ও কথা বলতে দেখা যাচ্ছে । কিন্তু ফলাফল সেভাবে আসছেনা । এটিকে একটি আন্দোলন ও বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশে দেশে সমাজে সমাজে একটি সামাজিক সংগ্রামের বেদীতে প্রতিষ্ঠা করার আন্তর্জাতিক এবং আন্তঃআঞ্চলিক ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত । বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে- আমাদের সব কিছুর মূল বুনিয়াদ কৃষি এবং কৃষক । এই কৃষি আমাদের অতীত, কৃষি আমাদের বর্তমান এবং কৃষিকে আমরা বিভিন্নভাবে বৈচিত্র্যকরণ, বহুমুখীকরণ এর মাধ্যমে, সময়োপযোগী ও আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে -আমাদের ভবিষ্যতের সার্বিক মুক্তির শক্তিশালী ভিত্তি হিসাবে বা অবলম্বন হিসেবে চিন্তা করতে পারি । আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা,খাদ্যের সহজলভ্যতা এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য এগুলো বাংলাদেশে খুব সহজে করা সম্ভব করা যায় এবং সেটি করতে না পারলে আমাদের আগামী দিনে চরম মূল্য দিতে হবে । ভেজাল খাদ্য গুলোকে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মেধাবী এবং শক্তিশালী শ্রমশক্তি গুলো নষ্ট করে দিচ্ছে । তারা আবার চিকিৎসার জন্য বিদেশের মাটিতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে । এতে কি হচ্ছে, ওই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টা করে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করছেন, দারিদ্র বিমোচন করছেন, দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে যাদেরকে বের করছেন ? তারা তো আবার স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়নির্বাহ করতে -সেই দরিদ্রের দুষ্টচক্রের মধ্যে ঘুরেফিরে বন্দী হয়ে যাচ্ছে , এগুলো নিয়ে ভাবতে হবে । ঢাকা শহরকে ডিজিটালাইজড করা বিকেন্দ্রীকরণ করা এবং বিশাল জনগোষ্ঠীর এই দেশের জনগণকে রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে, রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণের সাথে কার্যকরভাবে সংযুক্ত বা সম্পৃক্ত করার ব্যবস্থাটি নিয়ে ইতিবাচকভাবে আমাদের চিন্তা করতে হবে ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা বিশ্বের সবচেয়ে সৎ ও পরিশ্রমী এবং দূরদর্শী নেত্রী, রাষ্ট্রনায়ক । শেখ হাসিনাকেই সময়ের মহান ও কঠিন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে মুজিব বর্ষ পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো কে মোকাবেলা করার জন্য -আমরা যে যে পার্টি করিনা কেন, একটি কথা মনে রাখতে হবে, বর্তমান সমসাময়িক অবস্থায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচ্চতা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আর কাউকে দেখা যায় না ।তা র রাজনৈতিক এবং মেধার সমতুল্য বলবোনা, সমসাময়িক অবস্থার মধ্যেও তো কাউকে দেখা যায় না । কারণ তিনি এটি অর্জন করেছেন -দীর্ঘ ত্যাগ-তিতিক্ষা, স্বপ্ন -সাধনার ভিতর দিয়ে । উনি যেভাবে জাতিকে একত্রিত করতে পারেন এই মুহূর্তে দলীয় নেতা কর্মীদেরকে একত্রিত করতে ও যেকোন কাজে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন -এই মুহূর্তে অন্য কোন দলের বা অন্য কোন নেতৃবৃন্দের পক্ষে তো সেটা সম্ভব নয় । বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে । কারণ শুধু আবেগ দিয়ে চিন্তা করলে হবে না ।
নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, সত্যের উপর দাঁড়িয়ে -এই বিষয়গুলো প্রকৃতভাবে ভেবে দেখার নামই হলো রাজনীতি