• সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ১১:৩২ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
সংবাদ শিরোনাম
ভোক্তা পর্যায়ে পেঁয়াজের কেজি ৪৫ টাকা অস্বাভাবিক নয় বড় ধাক্কা : ৮০ পয়সা কমল টাকার মান ফখরুলকে বাড়াবাড়ি না করার আহ্বান জানালেন ওবায়দুল কাদের ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের ৭৫ শতাংশই ঢাকার বাংলাদেশের দারুণ শুরু ১১০ টাকায় সয়াবিন তেল বি‌ক্রির ঘোষণা দি‌য়ে স্থগিত কর‌ল টিসিবি কুসিক নির্বাচন: এক মাস আগেই মাঠে বিজিবি ভারত সরকারিভাবে গম রপ্তানি বন্ধ করেনি: খাদ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম টেস্ট প্রথম দিন শেষে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা করোনায় টানা ২৫ দিন মৃত্যুশূন্য দেশ, শনাক্ত ৩৩ আসামির দায়ের কোপে পুলিশ সদস্যের কবজি বিচ্ছিন্ন ম্যাথুসের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে শ্রীলঙ্কা গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সাবেক অজি তারকা সাইমন্ডস নিউইয়র্কের সুপারমার্কেটে গোলাগুলি, নিহত ১০ রোববার ৪ বিভাগে ভারী বৃষ্টির সম্ভবনা

‘ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নওগাঁ’ গ্রন্থ পর্যালোচনা

প্রজন্মের আলো / ৬৪ শেয়ার
Update : সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২

প্রফেসর মোঃ আব্দুল মজিদ:
ইতিহাস ও ঐতিহ্যে নওগাঁ গ্রন্থটি ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম, সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, নওগাঁ সরকারি কলেজ, নওগাঁ, কর্তৃক লিখিত। মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত। গ্রন্থটি ৪৯৬ পৃষ্ঠা এবং ১৫টি অধ্যায়ে বিন্যস্ত। বইটির ছাপা সুন্দর, ভাষা সহজবোধ্য। গ্রন্থের প্রচ্ছদ প্রণয়ন করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।
বাংলা ভাষা-সাহিত্যের গবেষক ও গ্রন্থপ্রণেতা, ইতিহাসজ্ঞ ড. মোহাম্মদ শামসুল আলমকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি এই কারণে যে, তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে কবি সন্ধ্যাকর নন্দীর ‘রামচরিত’, রমেশচন্দ্র মজুমদারের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’, খানসাহেব মোহাম্মদ আফজল-এর ‘নওগাঁ মহকুমার ইতিহাস’, কাজী মোহাম্মদ মিছের-এর ‘রাজশাহীর ইতিহাস’, প্রফেসর মোঃ আবুল ফজল সম্পাদিত ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস’ গ্রন্থসহ প্রায় ৪০টি সাময়িকী ও পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি নিয়ে প্রাঞ্জল ভাষায় নওগাঁ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জানার জন্য সর্বসাধারণের পথ সুগম করে দিয়েছেন। তিনি তথ্য-উপাত্ত নিয়ে যেভাবে গ্রন্থটি রচনা করেছেন তার উপর ভিত্তি করে বলতে হয় এটি নিঃসন্দেহে একটি গবেষণা গ্রন্থ। লেখক নিজে জেলার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন সূত্র উপস্থাপন করতে ভুল করেননি।
লেখক প্রথমে বাঙালি জাতির শেকড় খুঁজতে চেয়েছেন। আর্য থেকে অস্ট্রিক পর্যন্ত তাঁদের আবাসভূমি। আবার নেপালের তরাই, শিলং-এর মালভূমি থেকে বঙ্গোপসাগরের পূর্বে ত্রিপুরার গারো, লুসাই পর্বত পর্যন্ত, পশ্চিমে রাজমহল ও ছোটো নাগপুরের শৈলভূমির ৮০ হাজার বর্গমাইলের একটি চিত্র উপস্থাপন করেছেন। সেইসাথে তুলে ধরেছেন সমকালীন সময়ের প্রশাসনিক ইতিবৃত্ত। তিনি পাল ও সেন আমল (৭৫০-১২০৭ খ্রি.), স্বাধীন সুলতানি আমল (১২০৭-১৫২৬ খ্রি.), মোগল আমল (১৫২৬-১৭৫৭ খ্রি.), ইংরেজ আমল (১৫৫৭-১৯৫৭ খ্রি.), পাকিস্তান আমল (১৯৪৭-১৯৭১ খ্রি.) এবং বর্তমান বাংলাদেশ এর সময় পর্যন্ত জায়গির প্রথা, ইকতা, পরগনা, সরকার, জেলা, মহকুমা, বিভাগ, প্রদেশ প্রভৃতি ইতিহাস ও বিচার ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতার কার্যাবলির কথা গ্রন্থটিতে পরম্পরাগত আবেদন সূচিসুন্দর নান্দনিকতায় উপস্থাপিত হয়েছে।
গ্রন্থে নওগাঁ জেলা সৃষ্টির ইতিহাস এবং নওগাঁ জেলার ৭জন জমিদার ও ৮টি অভিজাত শ্রেণির প্রজাহিতৈষী কাজ, শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়াও নওগাঁ জেলার ১০টি শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস এবং‘ নওগাঁ সরকারি কলেজ’ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসও তুলে ধরেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে যেসব ব্যক্তি ভূমি দান করেছেন তাঁদের অবদানের কথাও বাদ পড়েনি। এসব জেনে বর্তমান প্রজন্ম এমন উন্নয়নমূলক কর্মে এগিয়ে আসবেন এমন ধারণা পোষণ করা যায়।
নওগাঁয় গাঁজা চাষ ১৭২২ খ্রি. থেকে শুরু হয়। ১৯১৭ খ্রি.‘গাঁজা কালটিভেটর কো-অপারেটিভ সোসাইটি’ নামে একটি সমিতি নিবন্ধিত হয় তার কথাও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও গ্রন্থে কয়েকটি গ্রন্থাগারের ইতিবৃত্ত উপস্থাপিত হয়েরেছ। সেগুলো হলো ‘প্যারিমোহন সাধারণ গ্রন্থাগার’ (১৯১০ খ্রি.), নওগাঁ, ‘চাকরাইল রিজওয়ান লাইব্রেরি’ (১৯৩৬ খ্রি.), ‘ভাতসাইল প্রগতি সংঘ পাঠাগার’ (১৯৫০ খ্রি.), ‘বদলগাছি, মজিবর রহমান স্মৃতি পাঠাগার’ (২০২০) ধামইরহাট, অন্যতম।
আরও লক্ষণীয় বিষয় হলো গ্রন্থে নওগাঁ জেলার উপভাষা সম্পর্কেও বিষদ আলোচনা আছে। এমনকি নওগাঁয় ধান উৎপাদন, পাতি চাষ এবং আমের রাজধানী সাপাহারে আমচাষ নিয়েও বিস্তর আলোচনা স্থান পেয়েছে। আমচাষ পর্বে কোন আম কোন সময় গাছ থেকে নামানো হয়, তারও ব্যাপকতা তুলে ধরেছেন।
গ্রন্থের অন্যতম একটি অধ্যায় হিসেবে তাজিয়া ও মাকবার প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত বিম্বিত হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় যেসব বিশ্বঐতিহ্যের নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থান আছে এমন ২৪টি পুরাকীর্তির গবেষণামূলক বর্ণনাও নজর কাড়ে। জেলায় যে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী বিল আছে সেগুলোর নান্দনিক বিবরণ পাওয়া যায়। বিলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার ঐতিহ্যগত চিত্র শৈল্পিক বিবরণে চিত্রায়িত হয়েছে।
সভ্যতা হলো সংস্কৃতির বস্তুগত সৃষ্টি। ই.বি.টেলরের মতে সমাজের সদস্য হিসাবে মানুষের অর্জিত-জ্ঞান বিজ্ঞান, আচার-বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইনকানুন, প্রথা-অনুশীলন, অভ্যাস প্রভৃতি যৌগিক সমন্বয়ই হলো সংস্কৃতি। সংস্কৃতি বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয় হতে পারে। তারই সূত্রে গ্রন্থটিতে নওগাঁ জেলার লোকস্থাপনা ও লোকখাদ্যের বিবরণও মাত্রিকতা এনে দিয়েছে। বিশেষত মাটির ঘর, টালির ছাউনি, ধানের গোলা, ধান ও খড়ের পালা অন্যতম। লোকখাদ্যে হিসেবে মাতাজি হাটের পন্সের মিষ্টি, নওগাঁর প্যারাসন্দেশ, তালপিঠা, তালবড়া, পাকান পিঠা, আচার, দুধপুলি,, কুমড়াবড়ি, খেজুর ও আখের গুড় এবং ঐতিহ্যবাহী দইয়ের কথাও পাওয়া যায়।
জেলায় হিন্দু ও মুসলিমসহ অন্যান্য সভ্যতার নিদর্শন সম্পর্কিত কথাও বর্ণিত হয়েছে। গ্রন্থটির পঞ্চম অধ্যায়ে পতিসরে বরীন্দ্রনাথ নামে একটি অধ্যায় আছে। এই অধ্যায়ে কবি রবীন্দ্রনাথের জমিদারি তদারকি, পরগনায় পুন্যাহ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান, রাজশাহী কলেজের সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ১৮৯১ খ্রি. থেকে ১৯১৭ খ্রি. পর্যন্ত ষোলবার আগমন করেন এবং সর্বশেষ তিনি পতিসরে আগমন করেন ১৯৩৭ খ্রি. ২৬ জুলাই। কবির বংশ তালিকা, পতিসরে রচিত গ্রন্থাবলির তালিকা, প্রজাহিতৈষী কাজের বিবরণ ও অঞ্চলটির গন্যমান্য ব্যক্তিদের সাথের কবির সম্পর্কের কথাও জানা যায়। পাঠক ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের এসব তথ্য অনেক কাজে আসবে বলে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।
লেখককে জানই ধন্যবাদ। কারণ নওগাঁ জেলার বহুমাত্রিক বিষয়সমূহ একই গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। এতে তথ্য অনুসন্ধানকারী জ্ঞান পিপাসুদের তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সহায়ক দলিল হিসেবে কাজে আসবে। পরিশেষে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। সেইসাথে গ্রন্থটির বহুল প্রচার ও প্রসার একান্ত কাম্য।
———————
অধ্যক্ষ (অব.)
নওগাঁ, তারিখ: ১০/০৪/২০২২ খ্রি.


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১,৯৫৩,০৪৯
সুস্থ
১,৮৯৯,৬৩৯
মৃত্যু
২৯,১২৭
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৫১৯,৮৭২,১২৬
সুস্থ
মৃত্যু
৬,২৫৮,৯৫১

Categories