• সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪২ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English

দীর্ঘ ৭০ বছর পর শিকড়ের সন্ধান পেলেন হারিয়ে যাওয়া- কুদ্দুস মুন্সী

প্রজন্মের আলো / ৪১ শেয়ার
Update : মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

এমরান মাহমুদ প্রত্যয়:
নওগাঁ জেলার পাশ্ববর্তী জেলা রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বারুইপাড়া গ্রামে এক ঐতিহাসিক বাস্তব জীবনের পটভূমি সৃষ্টি হয়েছে। হারিয়ে যাওয়ার, ৭০ বছর পর কুদ্দুস মুন্সী ফিরে পেতে চলছে তার আপন ঠিকানা সহ প্রিয়জনদের। বিধাতার বিধান না যায় খন্ডন।
কুদ্দুস মুন্সী পিতা-মৃত কালু মুন্সী,মাতা- মঙ্গলেমা বয়স সম্ভবত ১১০ বছর এখনো জীবিত। পিতামহ/দাদা- সূর মোহাম্মদ সরকার, আদি নিবাস সাং- বাড্ডা(মুন্সীবাড়ী), থানা- নবীনগর, জেলা- কুমিল্লা(ব্রাহ্মণবাড়িয়া)। বর্তমান অবস্হান- গ্রাম- বাড়ুইপাড়া, থানা- বাগমারা, জেলা- রাজশাহী।
 প্রায় ৭০ বছর আগে (কুদ্দুস মুন্সী /৮০)ছোট চাচার (পুলিশ কর্মকর্তা) সুবাদে বাগমারায় বেড়াতে আসেন। সেখানে থেকে কুদ্দুস মুন্সী বয়স যখন ১০ তখন বাগমারা থেকে হারিয়ে যান তিনি। অনেক খোঁজ করেও সন্ধান মিলেনি কুদ্দুছ মুন্সীর। বংশের ও গ্রামের লোকজন বলতে থাকে পুলিশ চাচা নিজ ভাইয়ের জমি আত্মসাৎ করার জন্য নিজের ভাতিজাকে খুন করে বলেছে হারিয়ে গিয়েছে।
কারণ কুদ্দুছ মুন্সী ছিল তার বাবার একমাত্র ছেলে ছিল। কুদ্দুস মুন্সীর আরও ছোট ২ বোন ছিল, যাদের কথা তিনি স্মরণ করতে পারেননি।
১০/১২ দিন আগে মোঃ আইয়ূব আলী, সিংসাড়া, আত্রাই, নওগাঁ এর একটি ভিডিও পোস্ট। সেখান কান্না জড়িত কন্ঠের আকুতি তুলে ধরা হয়, কুদ্দুছ মুন্সী কেবল তার নাম- কুদ্দুস মুন্সী বা ইদ্রিছ মুন্সী, পিতা- কালুমুন্সী, নবীনগর, সাং বাড্ডা।
এই ভিডিওটি চারিদিকে ছড়িয়ে দিয়ে এবং আমাকে সর্বাত্বক সহযোগীতা করেন বাড়ুইপাড়া, বাগমারা, রাজশাহীর এবং বর্তমান সিঙ্গাপুর প্রবাসী- মোঃ এম মাহফুজ সাহেব। এছাড়াও ইটালী প্রবাসী আবদুল আউয়াল (দরিগাঁও, দরিকান্দি, বাঞ্ছারামপুর) নিজ অর্থ খরচ করে বাড্ডার বিভিন্ন লোকজনসহ আমাকে একাধিকবার ফোন করে কুদ্দুছ মুন্সীর ব্যাপারে খোঁজ নেয়ার অনুরোধ জানান।
কুদ্দুস মুন্সীর ব্যাপারে খোঁজ নেয়ার জন্য আমার হয়ে বিভিন্ন বয়স্ক (নুরু দাদা, বাঁশ বেপারী)  লোকদের সাথে যোগাযোগ করেন- আমিনুল হক খোকন (পিতা- বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাঃ ফজলুল হক),পরে আবদুল হেকিম(কিবরিয়া মেম্বারের ভাই) নিশ্চিত করেন কুদ্দুস মুন্সী বাড্ডা মুন্সী বাড়ীর মুন্সী সিরাজ মিয়া ও মুন্সী মোহন ফকিরদের হারিয়ে যাওয়া চাচাত ভাই। পরে আমার ছোট চাচা মুন্সী আলী আকবর তা নিশ্চিত করেন।
বর্তমানে কুদ্দুছ মুন্সীর মা ও এক বোন জীবিত আছেন, কুদ্দুছ মুন্সীর সাথে ও তার ছোট ছেলের সাথে আমার সরাসরি ফোনে যোগাযোগ হয়েছে। আমি কুদ্দুস মুন্সী তার মা বোন ও মুন্সীবাড়ীর লোকদের সাথে মিলিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি, ইনশাআল্লাহ আশা করি অচিরেই সফলকাম হব।
পৃথিবীর ইতিহাসে ৭০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া কোন লোক তার শিকড়ের সন্ধান পেয়েছে কি না আমার জানা নেই।
৩ ছেলে ও ৫ কন্যা সন্তানের জনক কুদ্দুস মুন্সি, ছেলেরা হলেন- আবদুর রাজ্জাক মুন্সি, জান্নান মুন্সি, হাফেজ সোহেল রানা এবং মেয়েরা হলেন- খোদেজা বেগম, শেফালী বেগম, ছেলিমা বেগম, ছামিদা বেগম, খুশী মালা।
কুদ্দুস মুন্সীর নাতী ইন্জিনিয়ারি সফিকুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন- আত্রাইয়ের মোঃ আইয়ূব আলী, বাগমারার সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোঃ এম মাহফুজ, ইটালী প্রবাসী দরিগাঁওয়ের আবদুল আউয়াল, বাড্ডা ছামিরউদ্দিন বেপারীবাড়ীর আমিনুল হক খোকন, দরিকান্দির কবি শাজাহান আবদালী, বাড্ডা বাজারের সাইফুল্লাহ সাইফ  সহ যারা আমাকে ফোনে, ফেসবুকে বিভিন্ন ভাবে কুদ্দুছ মুন্সীর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১,৫৬৫,৪৮৮
সুস্থ
১,৫২৭,৮৬২
মৃত্যু
২৭,৭৬৮
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
২৪০,১৪৯,৬৬৬
সুস্থ
মৃত্যু
৪,৮৯৩,০৩৪

Categories