• বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
সংবাদ শিরোনাম
অল্পের জন্য হেরে গেলেন হিরো আলম বইমেলা উদ্বোধন করতে বাংলা একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লুটপাট, মাশুল দিচ্ছে জনগণ জাপানকে বিএনপির গোপন চিঠি: সংসদে ফাঁস করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রথম শ্রেণির ২৫ কর্মকর্তাসহ ৬৯ জনকে শাস্তি দিলো ইসি শিক্ষা নিয়ে ব্যবসার মানসিকতা পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ কোচের দায়িত্বে আবারও হাথুরু সিংহে ঢাকা বাণিজ্য মেলায় ৩শ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ প্রতিকার চেয়ে প্রেস কাউন্সিলে ওয়াসার এমডি রেলের ২৮১৭ একর জমি বেদখলে একাদশে ভর্তির আবেদনের সময় বাড়ল ৩০ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু গণশুনানি লাগবে না, প্রজ্ঞাপনেই জ্বালানির দাম বাড়াতে পারবে সরকার আ.লীগ পিছু হটে না: প্রধানমন্ত্রী

গ্রন্থ সমালোচনা

ভারততত্ত্ব বা তাহকিক-ই হিন্দ

প্রজন্মের আলো / ৩৪ শেয়ার
Update : মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২২

ভারততত্ত্ব বা তাহকিক-ই হিন্দ মূলঃ আল বিরুনীর অনুবাদঃ মুহম্মদ জালালউদ্দীন বিশ্বাস।

আপনি যদি একজন অনুসন্ধিৎসু পাঠক হোন বা হাজার বছর আগের ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি আপনার বিশেষ আগ্রহ থাকে বা ভারতীয় বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিদ আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত,বরাহমিহির,শ্রীসেন,বিষ্ণুচন্দ্র, বলভদ্র,তৃতীয় ভাস্কর বা কঙ্কের বৈজ্ঞানিক তত্ব,আবিষ্কারের খোঁজ পেতে চান বা বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে ইসলামী মণিষীদের অবদান জানতে চান অথবা ধরুন হাজার বছর আগে ভারতে হিন্দু ধর্মের আচার- অনুষ্ঠান,রীতিনীতি,সংস্কার-কুসংস্কার,রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নিয়ম, বিশ্বাস ইত্যাদি বিষয়ে আপনার জানার প্রবল ইচ্ছা, তাহলে আপনি এই বইটি পড়তে পারেন। আল বিরুনীর ভারততত্ব। যেটিকে প্রাচীন ভারতের বিশ্বকোষ বলা হয়ে থাকে। পুরো নাম আবু রায়হান মোহাম্মদ ইবনে আহম্মদ আল বিরুনী।

৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান উজবেকিস্তানের খোয়ারিজম শহরে তার জন্ম। ফারসি শব্দ বিরুনী অর্থ বহিরাগত। শহরের বাহিরে তার জন্ম বলেই হয়ত তিনি আল বিরুনী নামে পরিচিত হোন। আল বিরুনী ভারতীয় জ্যোতির্বিদ গণিতবিদ, ব্রহ্মগুপ্ত,আর্যভট্ট,বলভদ্র সহ আরো অনেকের গ্রন্থ আরবিতে অনুবাদ করেন ফলে আরব,প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের পন্ডিতগণ ভারতীয়দের জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় আলোকিত হোন। ফলে ভারতীয়দের জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্রন্থে আল বিরুনী ভারতীয়দের জীবনযাপনের সাধারণ ঘটনা বলি যেমন ঝাড়ফুঁক,মন্ত্রপাঠ থেকে শুরু করে সৃষ্টিকর্তা,পুনর্জন্ম,স্বর্গ-নরক,প্রাণীর শ্রেণীবিভাগ,সংস্কৃত ব্যাকরণ,ছন্দ, পরিমাপবিদ্যা,নদনদী,সাগর,বিভিন্ন রাজ্য শহর,গ্রহ,চাঁদ,ভূগোল,পৃথিবীর গোলীয় অবস্থা,সময় পরিমাপ,রামায়ণ মহাভারতের ঘটনাবলি,চাঁদের কক্ষপথ,সমুদ্রের জোয়ার ভাটা, সূর্য গ্রহণ,চন্দ্র গ্রহণ,তীর্থক্ষেত্র,পানাহার,বিবাহ, অর্থলাভ বিবিধ বিষয়ে ভারতীয়দের ধারণা তুলে ধরেণ। তাছাড়া আর্যভট্ট, বরাহমিহির,ব্রহ্মগুপ্ত,বলভদ্র সহ আরো অনেক গণিতবিদ জ্যোতির্বিদ এর গ্রন্থ আলোচনা করেন। গণিত শাস্ত্রে দশমিক পদ্ধতির ব্যবহার , শূন্যের ব্যবহারিক প্রয়োগ যে ভারতীয়রাই শুরু করেছিলেন তা আল বিরুনী এই গ্রন্থে উল্লেখ করেন। আল বিরুনী বলেছেন যেকোন দেশের সংখ্যা গণনা হাজারের চেয়ে অগ্রসর হয় না কিন্তু যারা হাজারের চেয়ে অধিক সংখ্যা গণনা করে তারা ভারতীয়।

ভারতীয়রা তাদের অংকের ১৯ ঘাত পর্যন্ত নিয়ে যায় যাকে ভুরি বলে। এ এক অকল্পনীয় বিষয়। “চন্দ্রগ্রহণ তখনই হয় যখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার মধ্যে প্রবেশ করে এবং সূর্যগ্রহণ তখনই হয় যখন চাঁদ সূর্যকে আড়াল করে নিজে গুপ্ত হয়ে যায়। এই কারণে চন্দ্রগ্রহণ কখনো পশ্চিম দিক থেকে এবং সূর্য গ্রহণ কখনো পূর্ব দিক থেকে আবর্তিত হবে না।” বরাহমিহিরের এই তত্ত্বটির আল বিরুনী কঠিন সমালোচনা করলেও তিনি তা তুলে ধরেন। যা আজ বৈজ্ঞানিক সত্য রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা সবাই জানি পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে এই সৌরকেন্দ্রিক মতবাদের ব্যবহারিক প্রমাণ পেয়েছিলেন গ্যালিলিও কিন্তু গ্যালিলিও এর জন্মের ১০০০ বছর পূর্বে এক ভারতীয় বিজ্ঞানী আর্যভট্ট তার সূর্যসিদ্ধান্ত গ্রন্থে সূর্যকেন্দ্রিক মতবাদ দেন অথবা বিজ্ঞানী নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কারের ১০৪৫ বছর পূর্বে ভারতীয় জ্যোতির্বিদ মাধ্যাকর্ষণের ধারণা দিয়েছেন, তিনি বলেছেন “পৃথিবীর সমস্ত মানুষ সোজা হয়ে দাঁড়ায় আর সমস্ত ভারী বস্তু প্রাকৃতিক নিয়মে নিচের দিকে পড়ে কেননা পৃথিবী বস্তুকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে।” এভাবেই ডারউইনের বিবর্তনবাদে প্রাকৃতিক নির্বাচনের যে ধারণা ভারতের বিজ্ঞানীরা হাজার বছর আগেই এই ধারণাটি জানিয়ে দিয়েছিলেন।

এই চরম সত্যগুলি হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। যা আল বিরুনী এ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। প্রাচ্য-প্রশ্চাত্যের তুলনায় ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান যে কতটা এগিয়েছিল আল বিরুনীর ভারততত্ত্ব গ্রন্থটি পড়লে তা জানা যায়। ভারত থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দুরে জন্ম নিলেও কীভাবে তিনি ভারতের খুটিনাটি বিষয় নিয়ে এমন একটি জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থ রচনা করলেন সেবিষয়ে দুএকটি কথা। সে সময় গজনীর সিংহাসনে দ্বিগবিজয়ী বীর সুলতান মাহমুদ। মহাকবি ফেরদৌসি সহ তদানিন্তন পৃথিবীর তাবৎ জ্ঞানীগুণী তার রাজদরবার অলংকৃত করছে। ইতোমধ্যে সুলতানের কাছে জুরজানের দরবারের রত্ন মহাজ্ঞানী দার্শনিক,বিজ্ঞানী গবেষক,পন্ডিত আলবেরুনী এবং ইসলামী স্বর্ণযুগের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসক,দার্শনিক ইবনে সিনার খবর পৌছে যায়। তৎক্ষনাৎ সুলতান জুরজানের রাজার কাছে আল বিরুনী ,ইবনে সিনা সহ আরো কয়েকজন পন্ডিতকে তার দরবারে পাঠিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পত্র প্রেরণ করেন। আর তার নির্দেশ অমান্য করলে কি পরিণতি হতে পারে তাও স্মরণ করে দেন।

পন্ডিত ইবনে সিনা রাজদরবার হতে পলায়ন করে প্রাণ রক্ষা করেন কিন্তু আল বিরুনীকে শেষপর্যন্ত গজনিতে আসতে হলো এবং তাকে অন্তরীণ করে রাখা হলো। সুলতান মাহমুদ ইতোমধ্যে বারংবার ভারত আক্রমন করে চলেছেন। প্রতিবার আক্রমনে বিপুল পরিমাণ ধনদৌলত,রত্নভান্ডারের পাশাপাশি হাজার হাজার দাসদাসী,জ্ঞানীগুণী পন্ডিতকে ধরে নিয়ে আসছেন। আল বিরুনী এইসব ভারতীয়দের সংস্পর্শে আসতে থাকেন এবং ভারত সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন ফলে ভারত সম্পর্কে তার অসীম আগ্রহের সৃষ্টি হয়। ভারতে আসার জন্য তার মন উৎগ্রীব হয়ে রইল।

সুলতান মাহমুদ আবারো ভারত আক্রমন করতে আসলে আল বিরুনী সুলতানের সাথে ভারতে আসেন,ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি সংস্কৃত ভাষা শিখেন এবং প্রায় ১০ বছর এখানে অবস্থান করে ভারতের পন্ডিত,বিজ্ঞানী, কবি,জ্যোতির্বিদ,সাধারণ মানুষের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন যার ফলশ্রুতি এই গ্রন্থ তাহকিক-ই হিন্দ বা ভারততত্ত্ব। শুধু মুসলিম বিশ্বে নয় গোটা পৃথিবীতে আল বিরুনীর মত মহাপণ্ডিত দ্বিতীয়টি পাওয়া দুষ্কর। ১০৩০ সালে রচিত এই গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন মুহম্মদ জালালউদ্দীন বিশ্বাস। হার্ড কভারে বাধা ঐতিহ্য প্রকাশনীর গ্রন্থটির মূল্য ৬০০ টাকা।

মোঃ সিদ্দিকুর রহমান উকিলপাড়া, নওগাঁ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ

Categories