• শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
সংবাদ শিরোনাম
করোনায় একদিনে মৃত্যু ৩, শনাক্ত ২৬১ বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ঝরল ৩ প্রাণ আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে হত্যা: ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: প্রধান আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ শাহজালালে সেই বিমানে বোমা পাওয়া যায়নি পরীক্ষা সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ভুল: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণে প্রাণ বাঁচলো ৪২ যাত্রীর বোমা আতঙ্কে শাহজালালে মালয়েশিয়ান ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ শিক্ষায় বড় একটা পরিবর্তন আনতেই হবে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু গাড়ি ভাঙচুর না করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীদের দেশে প্রবেশে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনসহ নতুন নির্দেশনা জেএসসির সনদের ফরম পূরণ শুরু ১১ ডিসেম্বর

যশোর-রাজশাহী বোর্ডের চেয়ারম্যান-সচিব ওএসডি

প্রজন্মের আলো / ৬ শেয়ার
Update : বুধবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২১
নতুন চেয়ারম্যান প্রফেসর হাবিবুর রহমান ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর মোকবুল হোসেন।

অনলাইন ডেস্ক:

প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাথায় নিয়ে অবশেষে ওএসডি হলেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন এবং সচিব অধ্যাপক এএম এইচ আলী আর রেজা। তাদের দুজনকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্ক মন্তব্যের দায়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহা. মোকবুল হোসেনকেও ওএসডি করা হয়েছে। তারা তিনজনই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা। মঙ্গলবার পৃথক আদেশে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমানকে ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং যশোর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. আহসান হাবীবকে যশোর বোর্ডের চেয়ারম্যান, রাজশাহী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. কামরুল ইসলামকে দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রাজশাহীর সরকারি এএইচএম কামরুজ্জামান ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক (ব্যবস্থাপনা) মো. আবদুল খালেক সরকারকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব পদে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ স্বাক্ষরিত দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৮ অক্টোবর বোর্ডের চেয়ারম্যান, সচিবসহ মোট পাঁচজনের নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর গত ২৩ অক্টোবর ধরা পড়ে আরও আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনা। একজন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততায় এমন বৃহৎ আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা সারাদেশে সমালোচনার ঝড় তুলছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এ ঘটনা যশোর শিক্ষা বোর্ডকে শুধু কলঙ্কিতই করেনি, কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। গত ৭ অক্টোবর অডিটকালে যশোর শিক্ষা বোর্ডে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের প্রথম ঘটনাটি ধরা পড়ে। সরকারি কোষাগারে জমার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার নয়টি চেক ইস্যু করা হয়েছিল। ওই চেকগুলো জালিয়াতি করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং এবং শাহী লাল স্টোর নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে এই বিপুল টাকা আত্মসাৎ করা হয়। দেখা গেছে, সোনালী ব্যাংক শিক্ষা বোর্ড শাখার এই চেকগুলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার মাধ্যমে পরিশোধিত হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের ২০২০-২১ অর্থবছরের আয়-ব্যয় বোর্ডের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্টের সঙ্গে মিলকরণের সময় দেখা যায়, বোর্ডের ব্যয় অ্যাকাউন্ট এসটিডি-২৩২৩২৪০০০০০২৪ হিসাব খাতের নয়টি চেক পরিশোধিত হয়েছে। কিন্তু বোর্ডে সংরক্ষিত মুড়ি বইয়ের চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিশোধিত টাকার মিল নেই। এ ধরনের অমিল ধরা পড়ায় হিসাব প্রদান শাখার হিসাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। বোর্ডে সংরক্ষিত মুড়ি বইয়ের নয়টি চেকের তারিখ অনুযায়ী হিসাব শাখায় ব্যয় রেজিস্ট্রারের ব্যয় বিবরণীতে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য চেকগুলো ইস্যু করা হয়। কিন্তু ইস্যু করা চেকগুলোর বিপরীতে ভ্যাট ও আয়কর বাবদ সরকারি কোষাগারে অর্থ পরিশোধিত হয়নি। আসলে নয়টি চেক জালিয়াতি করে ব্যাংক থেকে দুই কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা তুলে নিয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠান।

এরমধ্যে ২০২০ সালের ৮ জুলাই আয়কর বাবদ দুই হাজার ৫০০ টাকার চেক ইস্যু করে বোর্ড। ওই চেক জালিয়াতি করে ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করে ভেনাস প্রিন্টিং প্যাকেজিং। একইভাবে ২০২০ সালের ১২ আগস্ট ভ্যাট বাবদ এক হাজার ২০৭ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। ওই চেক জালিয়াতি করে ১৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা উত্তোলন করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। এরপর ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট আয়কর বাবদ ৬০০ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। ওই চেকের নম্বর ও তারিখ ব্যবহার করে শাহী লাল স্টোর নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নেয়। ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর আয়কর বাবদ ৬৭৮ টাকার চেক ইস্যু করে বোর্ড। এই চেকের নম্বর ও তারিখ ব্যবহার করে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ২৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা উত্তোলন করে এই শাহী লাল স্টোর। আবার একই বছরের ১৯ নভেম্বর ভ্যাট বাবদ ৬০০ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। ওই চেক জালিয়াতি করে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উত্তোলন করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং।

২০২১ সালের ৬ মে ভ্যাট বাবদ ৯৯৬ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। সেটি জালিয়াতি করে ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং। যদিও ব্যাংক থেকে পরিশোধিত চেক/অর্থের বিপরীতে প্রতিষ্ঠান দুটি বোর্ডে কোনো মালামাল বা সেবা সরবরাহ করেনি। সংশ্নিষ্টরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান বোর্ডে মালামাল সরবরাহের জন্য বোর্ডের সচিব স্বাক্ষরিত কার্যাদেশ প্রাপ্তির পর কার্যাদেশে উল্লিখিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্টোরে মালামাল সরবরাহ করে বোর্ডের সচিবের কাছে মালামালের চালান ও বিল ভাউচার দাখিল করে। এরপর বোর্ডের সচিব মালামাল বুঝে নেয়ার জন্য চালান ও বিলের ওপর স্টোরকিপারকে মার্ক করে স্টোরে পাঠান। স্টোরকিপার ওই চালান এবং বিল ভাউচার সচিব স্বাক্ষরিত স্মারকে কার্যাদেশ অনুযায়ী মালামাল বুঝে নিয়ে বিলের জন্য রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বিল ভাউচার হিসাব প্রদান শাখায় পাঠান।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে হিসাব প্রদান শাখার কার্যাদেশের মাধ্যমে বিল প্রদান নথি নিরীক্ষা করে দেখা যায়, ব্যাংক থেকে পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে কোনো বিল ভাউচার নথিতে উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ জালিয়াতি চক্র অন্য বিল থেকে ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার লক্ষ্যে ইস্যু করা চেকগুলোর মুড়ির নম্বরে এবং তারিখের মিল রেখে চেক জালিয়াতি করে বোর্ড তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করেছে।

মামলার আসামি যারা: এ ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারী পরিচালক মাহফুজ ইকবাল। এতে অভিযুক্তরা হলেন, চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, সচিব অধ্যাপক এএমএইচ আলী আর রেজা, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম, প্রতারক প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও শেখ হাটী জামরুলতলার শাহী লাল স্টোরের মালিক আশরাফুল আলম। এ মামলার তিনদিন পর গত ২১ অক্টোবর ধরা পড়ে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আরও আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা। এ ব্যাপারেও দুদকে আরও একটি অভিযোগ দেয় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। যেখানে বলা হয়েছে, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্লা আমীর হোসেন সচিব থাকার সময় এসব জালিয়াতি করেছেন। মামলা দায়েরের এক মাস পাঁচ দিন পর অবশেষে তারা ওএসডি হলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১,৫৭৬,৫৬৬
সুস্থ
১,৫৪১,৩৪৮
মৃত্যু
২৭,৯৮৩
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
২৬৩,১২২,২৮০
সুস্থ
মৃত্যু
৫,২২০,৪৫৭

Categories