• শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
সংবাদ শিরোনাম
করোনায় একদিনে মৃত্যু ৩, শনাক্ত ২৬১ বাসচাপায় বাবা-ছেলেসহ ঝরল ৩ প্রাণ আমিনবাজারে ছয় ছাত্রকে হত্যা: ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কুমিল্লায় কাউন্সিলর হত্যা: প্রধান আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ শাহজালালে সেই বিমানে বোমা পাওয়া যায়নি পরীক্ষা সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ভুল: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণে প্রাণ বাঁচলো ৪২ যাত্রীর বোমা আতঙ্কে শাহজালালে মালয়েশিয়ান ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ শিক্ষায় বড় একটা পরিবর্তন আনতেই হবে করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু গাড়ি ভাঙচুর না করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসীদের দেশে প্রবেশে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনসহ নতুন নির্দেশনা জেএসসির সনদের ফরম পূরণ শুরু ১১ ডিসেম্বর

শ্রদ্ধাঞ্জলি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আহমদ খান

প্রজন্মের আলো / ১৭ শেয়ার
Update : শুক্রবার, ১২ নভেম্বর, ২০২১

….……………………………….
মো. সফিকুল ইসলাম
……………..……………………
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা বাংলাদেশের দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মিউজিয়াম। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এই মিউজিয়ামের উদ্বোধন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আহমদ খানকে সারথ্যে করেই গড়ে ওঠে শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা। মনসুর আহমদ খান প্রবলভাবে বিশ্বাস করতেন, মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণ অবয়ব মিউজিয়ামে সংগ্রহ করলে ১৯৭১-র প্রজন্ম সচেতন হবে এবং বেড়ে ওঠবে প্রবল দেশচেতনায়। এঁরা পরিণত হবে সোনার বাংলার সোনার মানুষে; অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। সেই উদ্দেশ্যে উদ্যোগী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করে শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা।
মনসুর আহমদ খান উদ্বোধনের দিনই সেখানে যোগদান করেন। কিউরেটর পদে কর্মরত থাকাবস্থায় ২০০২ সালে ১২ নভেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন। প্রায় তিন দশক অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজের সব আবেগ ভালবাসা ও চেতনা দিয়ে মিউজিয়ামকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন। মিউজিয়ামকে ঘিরেই তাঁর জীবন আবর্তিত হতো। আজ ১২ নভেম্বর মহান এই মহান বাঙালির ১৯তম মৃত্যুবাষির্কীতে বিনম্র শ্রদ্ধা।
মনসুর আহমদ খান মিউজিয়াম সম্পর্কে নিজের এক লেখায় আবেগ বিজড়িত বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অক্ষয় দলিল, শাশ্বত ইতিহাস। স্বাধীনতার ইতিহাস যেভাবে কথা বলে ঠিক সেভাবেই ইতিহাসের উপকরণ বুকে ধারণ করে এটি দাঁড়িয়ে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার চত্বরে। সংগ্রহশালা রক্তাক্ত আর সংগ্রামের ইতিহাসের উপকরণ ও সম্পদ নিয়ে স্মৃতি হয়ে কথা বলে প্রতিদিন; যেখানে আছে লাখ লাখ শহীদের আত্মদান, এক সাগর রক্ত আর পাকবাহিনীর নির্যাতনের বীভৎস চিত্রমালা।’ একই লেখায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা আমাদের আত্মার ফসল। স্বাধীনতা সংগ্রামের এক মূর্ত প্রতীক। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ, আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের পরিচয়। এখানে কোন কৃত্রিম ইতিহাস নেই। এখানে ইতিহাস কথা বলে। এখানে এলে আত্মা শুদ্ধ হয়। নতুন প্রজন্মের সন্তানরা এখানে এসে সঠিক ইতিহাসের সন্ধান পায়। স্বীয় পরিচয় পায়। দেশকে ভালবাসার অনুপ্রেরণা যোগায়। দেশপ্রেম জাগরিত হয়।’
বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মনসুর আহমদ খান চাঁদপুরের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক পরিবারে ২৪ নভেম্বর ১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বরেণ্য শিল্পী হাশেম খান তাঁর বড় ভাই। তাঁর অপর বড় ভাই ডা. সোলেমান খান একাত্তরে শহীদ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অবস্থাতেই মনসুর আহমদ খান মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধ করেছেন চাঁদপুর-ফেনী-চট্টগ্রামে।
মনসুর আহমদ খান রাজশাহী তথা উত্তরাঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামী ইতিহাস সংগ্রহে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি সুলেখক ছিলেন, নিয়মিত পত্রিকায় লিখতেন। সম্পাদনা করেছেন অমূল্য তিনটি গ্রন্থ, ‘মুক্তিযুদ্ধে রাজশাহী’, ‘৬৯-এর ডক্টর জোহা’, ‘জীবন্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান দেবদাস’ (যৌথ)। রাজশাহী আর্ট কলেজে তিনি দুই দশকের বেশি সময় খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন, যেটি পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগে রূপান্তর হয়।
মনসুর আহমদ খান বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বধ্যভূমি ঘুরে বেড়িয়েছেন। ‘দেখে এলাম মুসলিম বাজার বধ্যভূমি’ শিরোনামে লেখার তাঁর তীব্র অনুভূতি বিশেষভাব অনুভব করা যায়। ওই লেখার এক জায়গায় তিনি বলেছেন, প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে আমি দেখছি বধ্যভূমির মাটি, ইট, কাদা, কাঁকর স্পর্শ করলাম পবিত্র মাটি। আমার অনুভবে তখন ১৯৭১ সালের পাকবাহিনীর পৈশাচিক অত্যাচার আর নির্যাতনের দৃশ্য ভেসে আসে। আমি যেন বাতাসে লাশের গন্ধ পাই প্রতি মুহূর্তে। বধ্যভূমির এক টুকরো মাটি সংগ্রহ করে নিয়ে আসি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালায় সংরক্ষণের জন্য।’
লেখক- উপ-রেজিস্ট্রার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১,৫৭৬,৫৬৬
সুস্থ
১,৫৪১,৩৪৮
মৃত্যু
২৭,৯৮৩
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
২৬৩,১৩০,৯১৫
সুস্থ
মৃত্যু
৫,২২০,৯৩৪

Categories