• মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ০২:২৭ অপরাহ্ন
  • Bengali Bengali English English
সংবাদ শিরোনাম
এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু: ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ১৪০ কিস্তিতে ৩৫ বছরে পদ্মা সেতুর ঋণ শোধ হবে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা শনাক্ত পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খোলা সেই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা সিআইডির ধারণা ; পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু শুধু হাত দিয়ে খোলা হয়নি শাসন করায় শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করলো ছাত্র করোনার চতুর্থ ঢেউ চলছে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত উদ্বোধনের আগেই দেবে গেলো নওগাঁ-রাণীনগর-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খোলা সেই টিকটকার সিআইডির হাতে আটক খোলা সয়াবিন লিটারে কমল ৫ টাকা, বোতলে ৬ টাকা একদিনে করোনায় ২ জনের মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত তারেক-জোবায়দার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা চলবে: হাইকোর্ট দেশের বাজারে শিগগিরই ভোজ্যতেলের দাম কমবে

শ্রমিক সংকটে ধান কাটতে পারছে না নওগাঁর চাষিরা; জমিতেই গজাচ্ছে ধানের গাছ

প্রজন্মের আলো / ৫৪ শেয়ার
Update : সোমবার, ১৬ মে, ২০২২

এসএম মোস্তাক আহম্মেদ:

গত এপ্রিল ও চলতি মাসে কয়েক দফা কাল-বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ধান উৎপাদনকারী বৃহত্তর জেলা নওগাঁয় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি ও শনির আঘাতে সমস্ত মাঠের ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটে মাঠে শুয়ে পড়া ধান কাটতে না পারায়, সেখান থেকে নতুন করে চারা গজাচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে যুক্ত হচ্ছে ব্লাস্ট রোগ। ঝড়ে ধানগাছ শুয়ে পড়া, ক্ষেতে বৃষ্টির পানি জমে ধান থেকে চারা গজানো ও ব্লাস্ট রোগের কারণে ধানের আবাদ করে ঘুম নেই নওগাঁর ধান চাষিদের মাঝে।

কয়েক দিন আগে ফসল দেখে চাষীরা উৎফুল্ল ছিলো কিছুদিনের মধ্যে মাঠের সোনালি ধান গোলায় উঠবে। কালবৈশাখী তান্ডবে কৃষকদের সোনালী স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কৃষকদের সোনালী ধানে শনি হানা দিয়েছে। মাঠের পাকা ধান জমিতে শুয়ে পড়েছে। এদিকে শুয়ে পড়া ধানে শ্রমিক সংকটে চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
নওগাঁ জেলার কয়েকটি উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, নওগাঁ সদর, মহাদেবপুর, ধামইরহাট, পত্নীতলা, মান্দা উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা যায়। এখনও হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল মাঠে আছে। অনেক এলাকার নিচু জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে আছে। সেখান থেকে শ্রমিকরা ধান কেটে তুলছেন। এক দুই দিনের মধ্য পানির নিচে তলিয়ে থাকা ধান তুলতে না পারলে সমস্ত ধান চিটা হয়ে যাবে। ধানের সঙ্গে খড়ও পচে নষ্ট হয়ে যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ জেলায় বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০০ হেক্টর। সেখানে অর্জিত হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর। এরই মধ্যে কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে ৫৬ হাজার ২৪০ হেক্টর জমির বোরো ধান আক্রান্ত হয়েছে।
কালবৈশাখী তান্ডবের পর থেকে কয়েক দফা ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। শ্রমিক সংকটে ধান কাটা-মাড়াই করাও সম্ভব হচ্ছিল না। জমিতে পানি জমে থাকায় ধান ডুবে রয়েছে। কাটতে দেরি হওয়ায় ধান থেকে চারা গজিয়েছে। এদিকে শ্রমিক সংকট হওয়ায় ধান কাটা-মাড়াইয়ে বিলম্ব হচ্ছে। বাড়তি মজুরি দিয়েও মিলছে না শ্রমিক। জমিতে হেলে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকরা অনিহা প্রকাশ করছে। জমিতে নুইয়ে পড়া ধানে চিটার পরিমাণও বেশি হচ্ছে। এলাকা ভেদে বিঘাপ্রতি জমির ধান কাটতে ৭-৮ মণ মজুরি দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আকাশে মেঘের আনাগোনা দেখলেই শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন চাষীরা।
চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা থেকে গত দুই দিন আগে ১৩ জন শ্রমিক ধান কাটার জন্য চকরাজা গ্রামে এসেছেন। শ্রমিক হাসিবুল ও কারিমুল বলেন, আমরা প্রতি বছর ধান কাটার জন্য এলাকায় আসি। প্রতি বছর আমরা নিজেরা ভাত পাক করে খায়। কিন্তু এবার ধার শুয়ে পড়ার কারণে আমাদের থাকা ও খাওয়া জমির মালিকের। বিঘাপ্রতি ৭-৮ হাজার টাকায় আমরা ধান কাটা-মাড়াই করছি। ধান মাটিতে পড়ে গিয়ে চারা গজিয়ে গেছে। জমিতে পড়ে থাকা ধান পানি থেকে অনেক কষ্ট করেই কাটতে হচ্ছে। যে জমিতে বিঘা প্রতি ২২-২৫ মণ ফলন হওয়ার কথা ছিল সেখানে ১৮-২০ মণ ফলন হচ্ছে। গত বছর এক বিঘা জমিতে শ্রমিক লাগতো ৫জন এবার সেই জমিতে ধান কাটকে শ্রমিক লাগছে ২ থেকে ৩ জন বেশী। কৃষকের ধানের ফলন কম হচ্ছে খবর বেশী হচ্ছে এবং এতে করে কৃষকরা লোকসানে পড়বে।
ধামইরহাট উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের আমিনা বেগম বলেন, বর্গা নিয়ে ৫বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছি। এক বিঘা জমিতে বোরো আবাদে হাল চাষ জমি তৈরি খরচ ১ হাজার টাকা, পানি ১ হাজার টাকা, চারা রোপন ১ হাজার টাকা এবং আগাছা দমন ৬০০ টাকা। কীটনাশক ও সার খরচ প্রায় ৫ হাজার টাকা। এছাড়া ধান কাটা-মাড়াই খরচ ৭-৮ হাজার টাকা। জমির মালিককে ধান বাবদ নগদ ১০হাজার টাকা দিয়েছি। সর্বমোট খরচ হয়েছে ২৫হাজার ৬শত টাকা। এবছর সবকিছুর খরচই বেশি পড়েছে। এত খরচ করার পরে সময় মত ধান ঘরে তুলতে পারছি না।
তিনি আরোও বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান পাচ্ছি ১৮ থেকে ২০ মণ। প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে হাজার পঞ্চাশ টাকা। এক বিঘা জমিতে ধান বিক্রি হবে ২০হাজার টাকা। বিঘা প্রতি খরচ ২৫ হাজার ৬শত টাকা। সব মিলিয়ে আমাদের বিঘা প্রতি লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচাল মো. শামছুল ওয়াদুদ বলেন, মাঠের ৭০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। ইতোমধ্যে ৩৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাঠের সব ধান কাটা শেষ হবে। তবে শ্রমিক সংকটে চাষীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া বাড়তি মজুরিও গুনতে হচ্ছে চাষীদের। আগামী এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টি না হলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মাঠের ধান কাটা হয়ে যাবে।
তিনি বলেন- শুরুর দিকে আবহাওয়া ভাল থাকলেও বর্তমানে প্রাকৃতিক দূর্যোগ শুরু হয়েছে। ধান কাটা মাড়াই শেষ না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও সংবাদ

Categories