অনলাইন ডেস্ক:
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকায় কারখানার আগুন ছড়িয়ে পড়ে সাত তলার পুরো ভবন জ্বলছে। এছাড়া এই আগুন পাশের একটি তিনতলা ভবনেও ছড়িয়েছে পড়েছে। আগুনের তাপের কারণে কারখানাটির কাছে যেতে পারছেন না ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। দূর থেকে এক পাশে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে আটটার দেখা যায়, আগুনের তাপের কারণে ভবনটির ১০০ মিটার পর্যন্ত কেউ যেতে পারছেন না। তাপের তীব্রতায় ভবনের ছাদ ধসে পড়ছে। এই ভবন থেকে আগুনের ফুলকি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আশপাশের ভবনে পানি ছিটিয়ে এ আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধ করার চেষ্টা করছেন। দেখা গেছে, থেমে থেমে কারখানাটির ভেতরে ছোট আকারে বিস্ফোরণ হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে ওই এলাকার অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। অ্যাডামস তোয়ালে, ক্যাপ এবং জিহং মেডিকেল সার্জিক্যাল গাউন তৈরির কারখানা। দুটি কারখানার গুদামই সাততলায়, যেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও কারখানার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, আগুনের তাপের কারণে কারখানাটির কাছে যাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে আগুন নেভানোর পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে কাজ করছেন তারা। ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।
দুপুর ২টায় লাগা আগুনে এখনও জ্বলছে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের কারখানা। কারখানার সাত তলার গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত। সেখানে কোন শ্রমিক ছিল না। তবে চারতলা ও তিন তলায় শ্রমিক ছিল। আগুন সাততলা থেকে ধীরে ধীরে নিচ তলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও কারখানার কর্মীরা আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই ২৫ কর্মীকে বাইরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। আগুনে কারখানার বিপুল মালামাল পুড়ে গেছে।
নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ২০টি ইউনিট। এর মধ্যে ৫টি নৌবাহিনীর ইউনিট। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের সাথে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর টিম। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
সেখানে অবস্থান করছে পুলিশের পাশাপাশি বিজিবির একটি টিমও। তারা আগুন দেখতে আসা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, কি কারণে আগুন লেগেছে রাতেও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কারখানাটিতে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য পদার্থ ছিল। এসব পদার্থ ছিল কারখানার ওপরের তলার গুদামে। সেখান থেকে আগুন ছড়িয়ে নিচতলা পর্যন্ত এসেছে। এজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। রাত সাড়ে ৮টায়ও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুনের তীব্রতা কেবল বেড়েই চলেছে। আশা করি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে আগুন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানান, আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো কারখানা ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ভবনের আশপাশে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন আছে। সেখান থেকে আগুন আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাতে ভবনটি ধসে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, কারখানায় ৭০০ জন শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। আগুন লাগার পর পরই তারা দ্রুত বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় কারখানার ভেতরে কেউ নেই বলে আমাদের মনে হচ্ছে। তবে আগুন নেভানোর পর বিষয়টি নিয়ে আরও ক্লিয়ার হওয়া যাবে।