স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছররা গুলিতে চোখে আঘাত পাওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এদিকে তাদের বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার খরচ দেবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এখন ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ওই তিন শিক্ষার্থী।
আহত ওই তিন শিক্ষার্থী হলেন- আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিন ইসলাম, ফারসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেসবাহুল ও মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলিমুল ইসলাম।
আইন বিভাগের আল আমিন ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের দিন আমরা বুঝতে পারিনি গুলি করা হবে। আকস্মিক আমাদের ওপর হামলা করা হয়। হামলার পর আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিলেট রয়েছে। গলার নিচে প্রায় ২০-৩০টা পিলেট রয়েছে। ঢাকায় আমাদের তেমন কোনো চিকিৎসা করা হয়নি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খরচ বহন করতে চেয়েছে।
মার্কেটিং বিভাগের আলিমুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বহনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না, যোগাযোগও করেননি। বর্তমানে তিনি খুলনায় তার বাড়িতে রয়েছেন। তার ভারতে চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট তৈরি করা হয়ে গেছে। অতিদ্রুত তিনি যাবেন।
উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার বলেন, আল আমিন ও মেসবাহুলের পরিবারের সদস্যরা এসেছিলেন। তাদের চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীর বিদেশে চিকিৎসার খরচ দেবে। সাধ্যের মধ্যে থাকলে শতভাগ খরচই দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার দুজনকে পাসপোর্ট করতে পাঠানো হয়েছে।
গত ১১ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাসে ক্যাম্পাসের দিকে ফিরছিলেন। বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। হামলা-সংঘর্ষ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলে আহত হন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯০ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর তিনজনকে পাঠানো হয় ঢাকায়। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত ছয় শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিক্যালের চক্ষু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছিল।