অনলাইন ডেস্ক:
জাতীয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) থেকে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছেন ৩৮ হাজার ২৮৬ জন শিক্ষক। এবারই প্রথম সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো তালিকা যায়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সাগরিকা নাসরিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আমরা কোনো তালিকা পাইনি। একটি চিঠি এসেছে তবে আমরা যেভাবে চিঠি চেয়েছিলাম শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সেভাবে পাঠানো হয়নি। তাই আমরা নতুন করে ফরওয়ার্ডিং চেয়েছি।
উপসচিব সাগরিকা নাসরিন বলেন, এ বিষয়ে কাজ চলছে। এছাড়াও আরো সময় লাগবে। যেহেতু এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় তাই এর থেকে বেশি কিছু বলা যাবে না। তালিকা এসেছিলো কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এটা আমাদের হাতে এখনো আসেনি।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী বলেন, এনটিআরসিএ নিয়োগের প্রাথমিক সুপারিশপ্রাপ্তদের ৩৮ হাজার ২৮৬ প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন সংক্রান্ত একটি চিঠি এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু কোনো ধরণের তালিকা আসেনি। কবে নাগাদ পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি। তিনি বলেন, এটা নিদিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসবে। এরপর সেটি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে দেয়া হবে। তারা ভেরিফিকেশন করে রিপোর্ট পাঠাবে। এরপরই নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নেয়া হলে এ বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে চাননি।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা চলতি সপ্তাহে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। এটির জন্য নানা প্রক্রিয়া রয়েছে। তাছাড়া যেহেতু এটি অন্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় তাই কতদিন সময় লাগতে পারে তা বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট শেষে শিক্ষকদের যোগদান শুরু করা হবে।
এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করা প্রার্থীদের সমস্ত তথ্য নেয়া হয়েছে টেলিটক থেকে। যেখানে ৩৮ হাজার ২৮৬ জন প্রার্থীর সমস্ত তথ্য মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার পৃষ্ঠা হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা এনটিআরসিএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার পর গত ১৫ জুলাই শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। ৫৪ হাজারের বেশি শূণ্যপদ থাকলেও আবেদন না করা এবং যোগ্যপ্রার্থী না থাকায় ৩৮ হাজার ২৮৬ জনতে নিয়োগে সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে সুপারিশ করা হয় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৬১০ জনকে এবং ননএমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৬৭৬ জনকে। আর ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি নারী কোটা পদে প্রার্থী না পাওয়ায় মোট ১৫ হাজার ৩২৫টি পদের ফল দেয়া সম্ভব হয়নি।