প্রজন্মের আলো ডেস্ক:
দ্রুত নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গেই গত কয়েক বছরে আমাদের দেশে ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিল্পের বৃদ্ধি ঘটছে। ক্রমেই স্মার্ট প্রযুক্তি নির্ভর বাড়িতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে শহুরে বাংলাদেশিরা। পাশাপাশিই রীতিমত পেশাদার ইন্টেরিয়র ডিজাইনারকে দিয়ে সুন্দর ও বসবাসের জন্য সুবিধাজনক গৃহসজ্জা করানোর ঝোঁক বাড়ছে শহুরে মানুষের মধ্যে।
আসুন জেনে নিই ঠিক কী ধরণের বদল আসতে চলেছে আগামীদিনের ইন্টেরিয়র ডিজাইন ব্যবসাতে।
ডিজাইনিংয়ে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার
ইন্টেরিয়র ডিজাইন ব্যবসায় বিপ্লব এনেছে থ্রি-ডি প্রিন্ট। একটা সময় ছিল যখন ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের হাতে আঁকা টু-ডি নকশা ও হাতে বানানো মডেল থেকেই ক্রেতাকে ধারণা করে নিতে হত বাড়ি বা অফিসের অন্দসজ্জা ঠিক কীরকম হতে পারে। এরপর ক্যাড প্রযুক্তি, থ্রি-ডি ফটো পেরিয়ে বর্তমানে জনপ্রিয় থ্রি-ডি প্রিন্টিং। এতে খুব সহজেই নিখুঁত মডেল তৈরি করে ফেলতে পারেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। প্রযুক্তির হাত ধরে আগামী কয়েক বছরে আরও বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে যেতে চলেছে ইন্টেরিয়র ডিজাইন।

ইতিমধ্যেই বাজারে এসেছে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি, যেখানে আপনি ঘরে বসে সম্পূর্ণ অন্য এক জায়গায় থাকার স্বাদ পাবেন। এতে ৩৬০ ডিগ্রির ভিডিও বা স্থির চিত্র তৈরি করা হয় এবং আপনি মাথা ঘোরানোর সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও স্থিরচিত্রটিও এমনভাবে সরবে আপনার মনে হবে আপনি সরাসরি সেই জায়গায় পৌঁছে গেছেন।
ভিডিও গেম-এ ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় এই প্রযুক্তি। তবে পিছিয়ে নেই ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিল্পও। স্কেচআপ, ভি-রে এবং থ্রি-ডি ম্যাক্সের মতো সফ্টওয়্যারের সাহায্যে ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি ডিজাইন সম্পর্কে গ্রাহককে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারছেন ডিজাইনাররা, ভার্চুয়ালি ক্রেতা পৌঁছে যাচ্ছেন তাঁর ভবিষ্যত্ গৃহে। আগামীতে ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের ক্ষেত্রেই ক্রমেই আরও বাড়বে এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার।
পরিবেশ বান্ধব উপাদানের ব্যবহার বাড়বে
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই অন্দরসজ্জায় পরিবেশ বান্ধব উপাদানের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে। কাঠের বদলে বিকল্প উপাদান ব্যবহার করে আসবাব তৈরির ঝোঁক বাড়ছে ক্রমশ। বাড়ির দেওয়াল থেকে ছাদ এমন উপাদানে বানানো হচ্ছে যাতে এয়ার কন্ডিশনের প্রয়োজন কম পড়ে। বাড়ির ছাদে লাগানো হচ্ছে ঘাসের কার্পেট। আগামী বছরগুলিতে এই ট্রেন্ড আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়বে রিসাইকেলড্ কম্পোসিটের ব্যবহার।
আগামী কয়েক বছরে গোটা পৃথিবীর জনসংখ্যার মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠর বয়স হবে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনেও পরিবর্তন আসবে তাদের পছন্দ মতোই। এই অল্পবয়সী নাগরিকদের রুচির ভিত্তিতে তৈরি হবে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ব্যবসার নতুন ধাঁচা। ডিজাইন হবে আরও বেশি স্বতন্ত্র।
ইনস্টাগ্রাম, পিন্টারেস্ট-এর মতো প্ল্যাটফর্মে হাজারো ডিজাইন হাতের মুঠোয়ে পাচ্ছে আজকের এই প্রজন্ম আর তাই আরও স্বতন্ত্র ও মৌলিক ডিজাইনের চাহিদা বাড়বে এই প্রজন্মের মধ্যে। বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে নতুন প্রজন্মের স্বাদ মতো ডিজাইনে পরিবর্তন আনতে হবে ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের।

থিম ভিত্তিক ডিজাইনের চাহিদা বাড়বে
নতুন প্রজন্মের ক্রেতারদের মধ্যে থিম ভিত্তিক ডিজাইন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশ্বজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে থিম ভিত্তিক অন্দর সজ্জা। আগামী বছরগুলোতে এই ট্রেন্ডই ছড়িয়ে পড়বে ভারতেও। মধ্যপ্রাচ্যের নকশা, ইওরোপীয় ধাঁচের অন্দরসজ্জা, পুরনো ভারতীয় ডিজাইন ইত্যাদি বিভিন্ন থিমকে মাথায় রেখে প্রয়োজন মতো ঘর সাজিয়ে নিতে চাইবে এই নতুন প্রজন্ম।
ব্যবসায় অন্যতম মুখ্য ভূমিকা রাখবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
ব্যবসা বৃদ্ধিতে অন্য মুখ্য সহায়ক হয়ে উঠবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। অন্যান্য ব্যবসার মতোই ইন্টেরিয়র ডিজাইন ব্যবসাতেও গুরুত্ব বাড়বে সোশ্যাল মিডিয়ার। সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলিই ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের পোর্টফোলিও হিসেবে কাজ করবে। বদলাবে সোশ্যাল মিডিয়ার চরিত্রও। ব্যক্তিগত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমশই ব্যবসাভিত্তিক হয়ে ওঠার সম্ভবানা দেখছেন অনেকেই। ব্যবসায় উন্মতি করতে হলে এই সুবিধাদের ব্যবহার করতে হবে পুরোদমে।

ইন্টেরিয়র ডিজাইনের উপাদানের ব্যবসা হবে আরও ইন্টারনেট নির্ভর
একটা সময় অবধি অনলাইনে আসবাব কেনার কথা ভাবতেই পারতেন না বেশিরভাগ ক্রেতাই। এখনও অনেকেই নিজে চোখে না দেখে আসবাব কিনতে স্বচ্ছন্দ নন অনেকেই। এই সমস্যার সমাধান করে ভার্চুয়্যাল রিয়্যালিটি প্রযুক্তি।
গৃহসজ্জার পাশাপাশিই এই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে আসবাব ও অন্যান্য অন্দর সজ্জার উপকরণের ক্ষেত্রেও। প্রযুক্তির মাধ্যমে দোকানে না গিয়েই আসবাব বা অন্দর সজ্জার উপকরণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব। এই ধরণের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবসা হয়ে পড়বে আরও ইন্টারনেট ভিত্তিক। স্বশরীরে দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন আর পড়বে না।
একইভাবে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের অন্যান্য উপকরণের ক্ষেত্রেও অনলাইন ব্যবসার ওপরও ক্রমশও আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন ভবিষ্যতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা।