নুরুজ্জামান লিটন:
ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি নার্সারি করার স্বপ্ন দেখেন নওগাঁর জেলার বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুরের বিউটি নার্সারির মালিক,মোঃমাহবুব আলম “বাবু” (৩২)।
২০০৮ সালে বাড়ির পাশে মাত্র ১৫ শতক জায়গার উপর ৫/৭ প্রকারের গাছের চারা নিয়ে শুরু করেন নার্সারি। অভাবের সংসারে জীবন চালনার তাগিদে বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করা ছোট চারা রোপণ করতেন বাড়ির আঙিনায়।সে চারা বিক্রি করতেন জয়পুরহাট,কালাই,আক্কেলপুর,বদলগাছীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে। পরবর্তীতে বগুড়ার শিবগঞ্জের সাথী নার্সারিসহ দেশের উন্নতমানের বহু নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ ও বিক্রির পেশা থেকেই গাছের চারা রোপণ করার বিভিন্ন পদ্ধতি আয়ত্ব করা শুরু করেন বাবু ।
২০১৭ সালে বদলগাছী উপজেলার ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বাজারের পশ্চিম পাশে কয়েক শতাংশ জমিতে ৪০/৪৫ প্রজাতির গাছ নিয়ে একটু বড় পরিসরে শুরু করেন নার্সারি ব্যবসা। নাম দেন “বিউটি নার্সারি”।খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে নার্সারিতে লাভের মুখ দেখতে পান তিনি। এরপর ধীরে ধীরে নার্সারিতে গাছের প্রজাতির সংখ্যা বাড়াতে থাকেন।বর্তমানে তার প্রায় ৪৫০ শতাংশ জমির উপর শতাধিক প্রজাতির ৫০ লক্ষ টাকার উপরে গাছের চারা রয়েছে বলে জানা গেছে।
কয়েক বছরে নির্বিঘ্নে গাছের চারা রোপণ ও বিক্রি করে লাভবান হতে থাকেন তিনি।নার্সারি থেকে লাভ করে গড়েছেন বাড়ি,কিনেছেন জমি।১০ বছরে শূণ্য হাতে নার্সারি ব্যবসায় নেমে আয় করেছেন প্রায় কোটি টাকা। উন্নতমানের চারা উৎপাদন ও মেলায় বিক্রির জন্য সন্মাননা হিসেবে পেয়েছেন ক্রেস্ট ও সনদ।
বাবু জানান, বর্তমানে তার প্রায় চৌদ্দ বিঘা জমিতে নার্সারি রয়েছে। এবছর নার্সারিতে বিভিন্ন বনজ, ফলদ, ঔষধি ও ফুলের চারা রোপণ করেছেন,প্রতি বছরই তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।এখানে দেশীয় জাতের নারিকেল ও সুপারি চারা রয়েছে। এছাড়াও নার্সারিতে প্রায় একশোর ও বেশি প্রজাতির বনজ ও ফলজ গাছ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বদলগাছী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসান আলী জানান,এ রকম তরুণ উদ্যোক্তার পাশে আমরা সব সময়ই আছি।আমাদের হার্টিকালচারের মাধ্যমে উন্নত জাতের চারা তাদের কাছে সরবরাহ করে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করি।