রামিম দেওয়ান : সম্ভাবনাময় নওগাঁয় উদ্যোগতার অভাব। এই কিছু দিন পূর্বে মুবাশশীরা কামাল (ইরা) ব্যালে কন্যা হিসেবে দেশ সেরা হয়ে সুনাম ছড়িয়ে দেন দেশ ব্যাপি। তার নিজের প্রচেষ্টা পিতা-মাতার অনুপ্রেরণা এবং তার শিক্ষক সুলতান মাহমুদ ও ডিএম লিজা সুলতানার দীক্ষায় ধীরে ধীরে ব্যালেতে তিনি দক্ষ হয়ে উঠেন এবং তার এই সুখ্যাতির সাথে সাথে নওগাঁ জেলার নামটিকে নিয়ে যান অনন্য উচ্চতায়। কিন্তু নওগাঁ জেলার অভিভাবকদের এই অমুল্য প্রতিভাগুলো প্রতি নেই পরিচর্যার কোন প্রকার উদ্যোগ। আর তাই জাতীয় পর্যায়ে নওগাঁ জেলার অংশ গ্রহন খুব নেই বললেই চলে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নওগাঁ জেলার আধিপত্য না থাকার পেছনে মুলত একটায় কারণ এই জেলার অভিভাবক ও নেতৃত্ব পর্যায়ের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি চর্চা, নৃত্যকলার সম্পর্কে অনীহা । তারা একটি জেলার উন্নয়ন বলতে সামান্য কিছু রাস্তার বিস্তার ও লোক দেখানো কিছু দান খয়রাত ছাড়া কিছুই বোঝেন না।
জাতীয় ক্রীড়া অঙ্গনের মোহাম্মদ এনামুল হক নামে সুপরিচিত একজন পেশাদার মেধাবী ফুটবলারের জন্ম আমাদের নওগাঁ জেলায়। এনামুল তার খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময় ঢাকা আবাহনী এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন এবং খ্যাতি অর্জন করেছেন, তার অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ প্রশস্ত। তবে তিনি অবসরের পর নিজ উদ্যোগে একটি ফুটবল একাডেমি গড়ে তুলেছেন। এতে নওগাঁর অনকে তরুণ ফলবলার জন্ম নিবে নি:সন্দেহে।
তবে ক্রিকেট, ভলিবল, হ্যান্ডবলে নওগাঁয় সম্ভবনাময় খেলোয়ার সৃষ্টি হলেও, জাতীয় পর্যায়ে নওগাঁকে উঠিয়ে আনার ব্যাপারে পৃষ্টপোষকতার অভাবে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নওগাঁর ক্রীড়া অঙ্গন। আর ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের ভয়াবহতা। আর নওগাঁর জেলা ক্রীড়া সংস্থা নামে যা আছে সেটিও দলীয় ও স্বার্থান্বেশী কারণে যুগোপোযোগী পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিগত সময়ে পূর্বের সভাপতি সাহেব দায়িত্বে থাকা কালে বেশ সম্ভবনা তৈরি হয়েছিল এবং সে সময়ে বেশ বড় ধরনের কিছু প্রতিযোগিতা ও নওগাঁর ঝিমিয়ে পড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গন নতুন করে সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছিল।
তবে কিছু উদ্যোগ উল্লেখ্য যেমন, কিছুদিন পূর্বে নওগাঁয় বকুল বালিকা দল খ্যাত নাফিসা নূর সাথী, এ্যাড. ডিএম আব্দুল বারি, সাহেবের ‘একুশে পরিষদ’ ব্যাক্তিগত ও সাংগঠনিক প্রচেষ্টায় নওগাঁয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন হলেও নওগাঁ অভিভাবকদের গঠনমুলক কোন উদ্যোগ এক্কেবারের নেই বললেই চলে।
তবে হালে হয়তো বাতাস লেগেছে যে বর্তমান নওগাঁ সদরের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দীন জলিল(জন) এর উদ্যোগে বেশ কিছু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রদান চোখে পড়ছে। তবে যদি, তিনি চাইলে নতুন করে গঠনমুলক ও পরিকল্পিত কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করলে নওগাঁর মেধাবী ঝড়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষ পেত।
নওগাঁ মেধাবীর ঝুলি মেশ ভারি, লক্ষ করলে দেখতে পাবেন ব্যান্ড সংঙ্গীতে সম্রাট নরগ বাউল জেমস্ এর জন্ম স্থান নওগাঁ’র মাটিতেই এছাড়াও পথিক নবী, মো: আতিকুর রহমান আতিক, বাউল খ্যাত রিংকুর মতো বিখ্যাত দেশ ও বিশ্ব বরেণ্য সংগীত শিল্পীদের জন্ম এই নওগাঁর উর্বর ভুমিতেই। বিখ্যাত ম্যারাথন দৌড় খেলোয়ার মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ী নওগাঁ সদর উপজেলার, বক্তারপুর গ্রামে। তিনি ২০০৭ সালে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত ৪২.১৯৫ কিঃ মিঃ ম্যারাথন দৌড়ে সারা বাংলাদেশের মধ্যে ১ম স্থান অধিকার করেন।
এক কথায় নওগাঁ’র মাটি উর্বর, এখানে অনেক মেধাবী তৈরি করা সম্ভব শুধু প্রয়োজন একজন সঠিক পরিকল্পনাকারী উদ্যোক্তার যিনি এই উর্বর মাটিতে ফলাবেন সোনালী ফসল এবং তার হাতের ছোঁয়ায় আমাদের প্রাণের নওগাঁ বিশ্ব করবে জয় । (সংকলিত, বার্তা সম্পাদক)