অনলাইন ডেস্ক:
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের সব থেকে বড় খাত হলো সিগারেট। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। আর দেশের মোট ধূমপায়ীর মধ্যে ৭৫ শতাংশই নিম্নস্তরের সিগারেটের ভোক্তা। সে কারণে আসন্ন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব ও জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশের আর্ক ফাউন্ডেশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ইলিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের টোব্যাকোনমিকসের এক গবেষণায় দেখা যায়, সিগারেটের দাম বাড়ার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা কমে। গবেষণায় বলা হয়েছে, সিগারেটের দাম ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে নিম্ন আয়ের মানুষের ধূমপান ৯ শতাংশ কমে আসে। কিন্তু দেশে গত চার অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র তিন টাকা! ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ শলাকার এক প্যাকেট সিগারেটের দাম নির্ধারণ করা হয় ৩৭ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এর দাম নির্ধারিত হয় ৪০ টাকা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সিগারেট খাত থেকে বেশ কয়েক বছর ধরেই ১০ থেকে ১৫ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি পেয়ে আসছে সরকার। কিন্তু এই হারে ভাটা পড়েছে গত অর্থবছরে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সিগারেট খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশ এবং চলতি অর্থবছরে সিগারেট খাত থেকে প্রবৃদ্ধি একই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ রাজস্ব আয় মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় কম থাকার সম্ভাবনা বেশি। এই রাজস্ব হারানোর কারণ হিসেবে নিম্নস্তরের সিগারেটের যথাযথ মূল্যবৃদ্ধি না হওয়ার কথা বলছেন বিশ্লেষকরা। এ অর্থবছরেও এর যথাযথ মূল্যবৃদ্ধি না হলে, তা দেশের সামগ্রিক রাজস্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাজেটে উচ্চ ও নিম্নস্তরের সিগারেটের দামের মধ্যে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম তেমন একটা বাড়ে না। এ জন্য সিগারেট খাওয়াও কমে না। নিম্ন আয়ের মানুষেরা এই সিগারেটের ভোক্তা, ফলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে উচ্চ স্তরের দাম বাড়ানোর কারণে নিম্নস্তরের সিগারেটের দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়ে। তাই আমি মনে করি, নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো উচিত।’
নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য ৪০ টাকা (প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেট) থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ানো গেলে তা সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ রাজস্বের পক্ষে ইতিবাচক হবে। জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় সরকার ধূমপানকে অনুত্সাহী করছে। তাই জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় এবং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য ন্যাশনাল বোর্ড অব রেভিনিউকে (এনবিআর) নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।