অনলাইন ডেস্ক:
দেশে এখন ২৬ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বেকার। এর আগে ২০১৭ সালের জরিপে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ। এই সময়ে দেশে পুরুষ বেকারের সংখ্যা বাড়লেও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে নারী বেকারের হার। ফলে পাঁচ বছরের ব্যবধানে সার্বিক বেকার কমেছে ৭০ হাজার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ অনুযায়ী এই পাঁচ বছরে দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ শ্রমবাজারে এসেছে। শতাংশের হিসাবে দেশে এখন ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেকার। আগের হিসাবে এই হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
গতকাল বুধবার পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২-এর ফলাফল তুলে ধরা হয়। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২ অনুযায়ী বেকার জনবলের সংখ্যা ২৬ লাখ ৩০ হাজারের মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ৯০ হাজার, নারী ৯ লাখ ৪০ হাজার। ২০১৬-১৭-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ২৭ লাখ মানুষ বেকার ছিল। তার মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ, নারী ১৩ লাখ ছিল। অর্থাৎ, পুরুষ বেকারের সংখ্যা বাড়লেও কমেছে নারী বেকারের সংখ্যা। জরিপ অনুযায়ী দেশে শিল্প খাতে কর্মসংস্থান কমেছে। কিন্তু কৃষি ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় বেকারের হার কমে এসেছে। করোনার সময় সারা বিশ্বে যখন বেকারত্ব বেড়েছে, তখন দেশে কীভাবে কমল, সেই প্রশ্ন করা হলে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, করোনার কারণে অনেক মানুষ গ্রামে ফিরে গেছে। তারা কৃষিকাজে নিয়োজিত হয়েছে। ফলে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। তিনি বলেন, মহামারির সময় বেকার ও দারিদ্র্যের হার দুটিই কমেছে। সরকার বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে কর্মসংস্থান বেড়েছে। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের হিসাবে ঢাকা শহরে করোনার সময় ২০ শতাংশ থেকে দারিদ্র্য কমে ১৬ শতাংশ হয়েছে। অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও ১০ শতাংশ থেকে কমে আটে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, সরকার বিলিয়ন ডলার প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে। আপনারা গভীরে গেলেই বুঝবেন দেশে দারিদ্র্য কমেছে।
‘শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২’-এর প্রতিবেদন গতকাল বুধবার বিবিএস মিলনায়তনে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। এছাড়া শ্রমসচিব এহছানে এলাহী, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, এনডিসি বক্তব্য দেন। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক আজিজা রহমান।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, করোনার সময় কর্মসংস্থান কমেনি, বরং বেড়েছে। শহর ছেড়ে অনেকে গ্রামে গিয়ে মাছ ও সবজির চাষ করেছেন। অনেকে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছেন। এ সময় নারীর কর্মসংস্থানও বেড়েছে। ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও দ্বিগুণ হারে বাংলাদেশে নারীরা কর্মসংস্থানে রয়েছেন। তবে শহরে নারীর কর্মসংস্থান কমলেও গ্রামে বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, এক বছরের ব্যবধানে গ্রামে মজুরি বৃদ্ধির সূচক প্রায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। এটাই প্রমাণ করে, গ্রামে কর্মসংস্থান বেড়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্তরে সব দেশে শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়লেও বাংলাদেশে কেন উলটো পথে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে এমনটাই হতো। তবে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশে এমনটা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। প্রায় ছয় বছর পর এই জরিপ করা হলো। এখন থেকে প্রতি ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।