তাহেরা এনায়েত করিম:
আবু হাসান নওগাঁ সদর উপজেলার বিলভবানীপুর গ্রামরে আবুল কালাম আজাদরে ছেলে। এসএসসি প্রর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। লেখাপড়াই মনোযোগী না হওয়াই আস্তে আস্তে কৃষি কাজে যোগ দেন তিনি। বাবার ৪ বিঘা ফসিল জমিতেই শুরু করেন চাষাবাদ। কিন্তু এ দিয়েও তেমন একটি উন্নতি হচ্ছিল না আবু হাসানের। উন্নতি এবং জীবকিার সন্ধানে র্সবদা ব্যস্ত থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন তিনি। কিন্তু ফসল চাষ হবে কি দিয়ে? ততক্ষণে তার মাথায় আসে গরু দিয়ে হালচাষ পদ্ধতির।
জোড়া হালের গরু ক্রয় করতে সেইসময় তার প্রয়োজন ১লক্ষ২০ হাজার টাকা। কিন্তু পারিবারিক অবস্থা ততটাও সচ্ছল না হওয়ার জন্য ছুটে চলেন আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু প্রিয় মানুষদের কাছে।কিন্তু কোনো লাভ হইনি, কেউ টাকা দিয়ে সাহায্য করিনি আবু হাসানকে। আবু হাসান মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন।এরপর একদিন তিনি শৈলগাছী বাজারের শুকুরের মোড়ে চা স্টলে চা খাওয়ার সময় শৈলগাছী আশা অফিসের ম্যানেজার আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের সাথে পরচিয় হলে তিনি তাকে পরার্মশ দেন ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে গরু ক্রয়ের পরিবর্তে ৫০হাজার টাকা দিয়ে পাওয়ারটিলার ক্রয় করা সম্ভব।
যা দিয়ে নিজের জমি ছাড়াও আপানার গভীর নলকূপের স্ক্রিমসহ অন্য কৃষকের জমি চাষ করে টাকা র্উপাজন করতে পারবেন। কিন্তু পাওয়ারটিলার কিনার মত অর্থ সেই সময় ছিলোনা আবু হাসানের। এর পর সেই ম্যানেজার তাকে পরামর্শ দেন আশা সংস্থায় ভর্তি হওয়ার। কোন টাকা পয়সা লাগবনো। শুধু ৫০ টাকা সঞ্চয় দিলেই ৫০হাজার টাকা ঋন পাওয়া যাবে। এর পর সেখান থেকে ঋণ নিয়ে পাওয়ারটিলার ক্রয় করে প্রথম বছরে জমি চাষ করে ৮০হাজার টাকা লাভ হয় আবু হাসানের। এভাবে কেটে যায় ১ বছর।
পাওয়ারটিলারটি পুরাতন হওয়ায় আগরে মতো কাজ হয় না। এইদিকে শুধু ধান চাষে সংসারে ২টি ছেলে সন্তান এবং তারা স্কুল ও কলেজে খরচ এবং পরিবারের খাদ্যরে চাহিদা পুরুন করতে কষ্ট হতো আবু হাসানের। এরপর তিনি আবারো আশা অফিসে এসে জানতে পারেন র্বতমানে আশা শৈরগাছি ব্রাঞ্চে জাইকার র্অথায়নে বাংলাদশ ব্যাংকের এসএমএপি প্রকল্পরে আওতায় ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
এখানে কৃষকের ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পের জীবনচক্র অনুযায়ী পাঁচবার সদস্যকে টিএসএস প্রদান করা হবে এবং সাথে বিনামূল্যে পাওয়ারটিলার প্ররিচালনা প্রশক্ষিণ সহ হিসাব সংরক্ষণ কলাকৌশল ও শিখানো হবে।প্রকল্পটির নাম এসএমএপি(জাইকা সহায়তাপুষ্ট)।
মাসিক ও এককালীন ঋণ পরিশোধের সুযোগ রয়েছে এই প্রকল্পে। এই কথা শুনে চলমান ঋণ পরিশোধ হওয়ার পরে এসএমএপি ঋণ গ্রহন করেন আবু হাসান। সেখান থেকে তিনি টিএসএস ও কৃষি র্কমর্কতাদরে সাথে যোগাযোগের সুযোগ ও ব্যবসার হিসাব সংরক্ষণরে কলাকৌশলের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ শেষে পাওয়ারটিলার সর্ম্পকে ভাল ধারণা থাকায় তা পুঁজি করে র্বতমানে আবু হাসান একজন সফল কৃষক। এলাকার অন্যান্য কৃষকদরেও পরার্মশ দেন তিনি। পাওয়ারটিলার ক্রয় করতে কৃষকদের পরামর্শ দেন তিনি। এলাকার অনকে কৃষক তার পরার্মশ গ্রহন করে পাওয়ারটিলার ক্রয় করে লাভবান হচ্ছেন।
আবু হাসানের কাছে বিষয় টি জানতে চাইলে তিনি বলেন,শৈশবে ফুটবল খেলার নিশায় নিজে পড়ালেখা করতে পারিনি। কিন্তু আমার সন্তানদের পড়াশুনা করার জন্য একটুও পিছু পা হবোনা। সবর্দা সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্বল হওয়ার পিছনে কাজ করে যাচ্ছি। আর আমার বর্তমান অবস্থার জন্য আশা এনজিওর অবদান অপরিসীম। আজ আশা এনজিওর জন্যই আমরা স্বামী-স্ত্রী ও দুই ছেলে’ মিলে সুখে শান্তিতে আছি।