ইটভাটা বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রবিবার ১৬ই নভেম্বর সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নওগাঁ জেলা ইটভাটা মালিক-শ্রমিক গ্রুপ। এতে হাজারো মালিক ও শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
চলতি মৌসুমে ইটভাটা বন্ধের সরকারি নির্দেশনার পর, কাজ হারানোর আশঙ্কায় নওগাঁর ১১ টি উপজেলার ইটভাটার শ্রমিক ও মালিক । কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ ও হাজার হাজার শ্রমিকের জীবন-জীবিকা রক্ষায় ইটভাটা পরিচালনার অনুমতি চেয়ে এই মানববন্ধন করেন।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইটভাটা মালিক মকলেছুর রহমান মক। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক নূরে ই আলম মিঠুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে জেলার ১১ টি উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় কর্মরত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন। মানববন্ধনে শ্রমিকরা ইটভাটা বন্ধ না করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। মানববন্ধন শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক নওগাঁ সাদিয়া আরফিন বরাবর ইটভাটা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে জানানো হয়, যদি এই মুহূর্তে ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয় লক্ষ লক্ষ টাকার কাঁচামাল নষ্ট হবে। ইটভাটা বন্ধ হলে গ্রামের বিশাল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের জীবন-জীবিকা চরম সংকটে পড়বে। বহু বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা এই শিল্প বন্ধ হলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এছাড়াও সমিতির পক্ষ থেকে মানবিক দিক বিবেচনা করে চলতি মৌসুমে ইটভাটা পরিচালনার অনুমতি প্রদানের জন্য জোর আবেদন জানানো হয়েছে।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা সরকারকে নিয়মিত ট্যাক্স, ভ্যাট, দিয়ে ইটভাটা চালাচ্ছি। ইটভাটা বন্ধ করে দিলে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারাবে, যা তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের মতো সাধারণ মালিক এবং শ্রমিকদের কথা ভাবা উচিত। আমরা চাই সরকার মানবিক দিক বিবেচনা করে। ইটভাটা
পরিচালনার অনুমতি দিক, যাতে আমরা আমাদের ঋণের বোঝা মেটাতে পারি এবং শ্রমিকরা যেন কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে না থাকে।
এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন জেলার ১১ টি উপজেলার ইটভাটা মালিক, মালিক সমিতির সদস্যবৃন্দ ও শত শত শ্রমিকরা, তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপির বিষয়টি বিবেচনা করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।