পারভেজ গাদ্দাফী
আত্রাই প্রতিনিধি :
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকাগামী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ পুনরায় চালু ও স্টেশনটির সংস্কার—এই দাবিতে রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আত্রাই উপজেলা বাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশ নেন আত্রাইয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী রাণীনগর, বাগমারা ও সিংড়া উপজেলার হাজারো সাধারণ মানুষ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আহসানগঞ্জ স্টেশন এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। সকল আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।
বক্তারা বলেন, আহসানগঞ্জ রেলস্টেশন একসময় উত্তরাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন ছিল। এখন ট্রেন না থামায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তারা রেল মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান—এই যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “একসময় প্রতিদিন যাত্রীদের ভিড়ে স্টেশনে জায়গা পাওয়া যেত না। এখন ট্রেন না থামায় আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।”
শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “ঢাকায় পড়াশোনা করতে গেলে এখন বাসে যেতে হয়, যা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত ট্রেন স্টপেজ চালুর দাবি জানাচ্ছি।”
কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, “ধান, আম, মাছের জন্য বিখ্যাত নওগাঁর এই অঞ্চলের পণ্য পরিবহন সহজ করতে ট্রেন থামানো খুবই জরুরি।”
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ও আত্রাই উপজেলার ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নওগাঁ জেলার আহসানগঞ্জ (আত্রাই) ব্রিটিশ আমল থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন। ঢাকাগামী চিলাহাটি ও পঞ্চগড় এবং খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস আন্তঃনগর ট্রেনটি জনস্বার্থে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রা বিরতির প্রয়োজন।
আত্রাই অঞ্চলের ৫-৬টি উপজেলার মানুষ এই স্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে উঠানামা করার কারণে এ স্টেশনে টিকিটের চাহিদা অনেক বেশি। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।“এটি আত্রাইবাসীর ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি। স্টেশন সংস্কার ও আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দিলে এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। আমি রেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছি।”
আত্রাই কলেজের প্রভাষক মাহমুদুল হক বলেন, “আহসানগঞ্জ স্টেশন শুধু আত্রাই নয়, রাণীনগর ও বাগমারা , সিংড়া থানার মানুষেরও একমাত্র ভরসা। স্টপেজ দিলে বৃহত্তর নওগাঁর উন্নয়নে নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।”
সাবেক রেল কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “স্টেশনের অবস্থা জরাজীর্ণ। যাত্রীদের বসার জায়গা নেই। স্টেশনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে।অবিলম্বে সংস্কার ও অন্তত দুইটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু করা দরকার।যা এলাকার উন্নয়নে কাজে আসবে।”
বক্তারা বলেন, আহসানগঞ্জ স্টেশনে ট্রেন না থামানোর কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষকরা ও ব্যাবসায়ীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অবিলম্বে এই দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।