শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) নওগাঁ উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে সমৃদ্ধ নওগাঁ আজ উচ্চশিক্ষার নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা নয়; এটি এ অঞ্চলের শিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সরকারি চাকরি অর্জন নয়; বরং এমন দক্ষ, সৃজনশীল, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলা, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রের বাস্তব সমস্যার সমাধানে নেতৃত্ব দেবে। শিক্ষা হতে হবে কর্মমুখী, গবেষণাভিত্তিক এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জেনজি আন্দোলনের অবদান আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। জেনজি আন্দোলন মানে মেধা ও শৃঙ্খলার জয়। তবে সেই চেতনা কখনোই পরীক্ষায় অনিয়ম, নকল বা শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার বাজেট বরাদ্দ করেছে। এখন প্রয়োজন সেই অর্থের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বক্তব্যের একপর্যায়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রসঙ্গ উদাহরণ হিসাবে টেনে তিনি বলেন, কলকাতার দাদারা যখন আপনার প্রশংসা করবে, তখন বুঝবেন আমি ভুল পথে আছি। আর যখন তারা বদনাম করবে, তখন বুঝবেন আমরা সঠিক পথে আছি।
তিনি আরও জানান, বগুড়া-নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক চর্চার অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো—জনপ্রতিনিধিদেরও জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর একটি বক্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশের ঘটনাকে তিনি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন এমপি।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. আমানউল্লাহ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলার সংসদ সদস্যবৃন্দ, দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী।
উল্লেখ্য, প্রথম বছরে ৮০ জন শিক্ষার্থী দিয়ে কার্যক্রম শুরু করলো নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ৮০ টি আমরুপালী বৃক্ষ দিয়ে ৮০ শিক্ষার্থীকে বরণ করা হয়।