সংবাদদাতা:
নওগাঁর পোরশায় চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তথ্য প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিশেষ সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে লুণ্ঠিত মালামালসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৪ জন কুখ্যাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮:০৫ মিনিটে পোরশা থানাধীন সরাইগাছি-খাটাপাড়া সড়কের ফকিরের মোড় সংলগ্ন একটি ব্রিজের ওপর রশি টেনে গতিরোধ করে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলটি দেশীয় অস্ত্র (হাসুয়া, ছুরি, লাঠি) দেখিয়ে পর পর দুটি মোটরসাইকেলের ৬ জন আরোহীকে জিম্মি করে পাশের আম বাগানে হাত-পা বেঁধে ফেলে রাখে। তাদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন ফোন এবং ১২৫ সিসির একটি ডিসকভার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায় ডাকাতরা।
ঘটনার পর পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল রহস্য ভেদ করে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার অভিযানে বগুড়া, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা, ১. মো. গোলাম মোস্তফা ওরফে শ্যামল (৫৫): নওগাঁ সদরের দোগাছী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত অস্ত্র, রশি এবং ভিকটিমের গলার মালা ও মাস্ক উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে ২টি মামলা রয়েছে।
২ ও ৩ নাম্বার আসামি মো. আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩): সাপাহার উপজেলার এই পিতা-পুত্র ডাকাতি শেষে নওগাঁ সদরে এক আত্মীয়ের বাসায় আত্মগোপন করেছিলেন। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আবু তাহেরের নামে ৫টি এবং কামালের নামে ৩টি মামলা রয়েছে।
৪. মো. মোস্তাক আহমেদ জাহিদুল (৪৬)পিতা- মৃত্যু কফিল উদ্দিন চৌকিদার সাং- শিবরামপুর, থানা-মহাদেবপুর,জেলা- নওগাঁ। আসামি মোস্তাক আহমেদ জাহিদুলের পৈত্রিক বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানা এলাকায়। সে প্রায় ২০ বছর যাবৎ মহাদেবপুর থানার শিবরামপুর গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করে বিলের মধ্য বসবাস করে। সে অপর একটি ডাকাতি মামলায় পাঁচ বছর জেল হাজত খেটে প্রায় আট মাস পূর্বে বের হয়। তার বাড়ি থেকে একটি রেজিস্ট্রেশন বিহীন ডিসকভার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেল টি কার তা যাচাই-বাছাই করার জন্য জব্দ করা হয়।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার জনাব তারিকুল ইসলাম বলেন এই চক্রটি অত্যন্ত সুসংগঠিত। তারা রাস্তায় রশি টেনে মোটরসাইকেল আরোহীদের গতিরোধ করে ডাকাতি করত। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ফলে দ্রুততম সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।