শাহরিয়ার শাওন :
নওগাঁর একাধিক উপজেলা থেকে চুরি হওয়া ৫টি গরুসহ আন্ত:চোর চক্রের ৪সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২১জুলাই বগুড়া ও নাটোর জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় র্যাবের সহযোগিতায় জেলা ডিবি পুলিশ ও রাণীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে দিনব্যাপী অভিযানটি পরিচালনা করে।
বুধবার ২২জূলাই বিকেলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার কমল দোগাছি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে ও অস্ত্রসহ ৯টি মামলার আসামি গোলাম রাব্বানী (৩৯) এবং নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকার পতিত চন্দ্র হালদারের ছেলে সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০) ও একই এলাকার সুমেন রাজবংশীর ছেলে সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল (২৭)। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা আছে।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, মহাদেবপুর ও বদলগাছি উপজেলয়া কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। সবগুলি গরু চুরির ঘটনা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে এলে তার নেতৃত্বে পুলিশের সমন্বিত একাধিক চৌকস দল গঠন করা হয়। এরপর গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে গত ১৪ই জুলাই জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রানীনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আন্ত:জেলা গরু চোর চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে ২১জুলাই রাতে বগুড়া র্যাব সদস্যদের সহায়তায় ডিবি পুলিশ কুখ্যাত গরু চোর গোলাম রাব্বানীকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ আরও জানায়, পরবর্তীতে গ্রেপ্তার গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়ার র্যাব কমান্ডিং অফিসারের সার্বিক সহযোগিতায় নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলায় অভিযান চালানো হয়। বগুড়া ও নাটোর র্যাব সদস্যদের সহায়তায় জেলা ডিবির ওসি হাসিব ও রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়ার নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে সিংড়া উপজেলার তাজপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত গরু চোর সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার ও সুচন্দন রাজবংশী ওরফে সজল কে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দুইজন সম্পর্কে শালা-দুলা ভাই। এসময় তাদের হেফাজত থাকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, উপজেলার গোনা এলাকায় দুটি গরু চুরি পর মামলা নেওয়া হয়। এরপর সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে চুরির সময় ওই এলাকায় একটি পিকআপ দেখা যায়। এই পিকআপের সূত্র ধরেই আমরা গত কয়েকদিন থেকে অভিযান পরিচালনা করছি। গত এক সপ্তাহ আগে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আর আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, তারা মূলত পেশাদার চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির আন্ত:জেলা চক্রের একটি সিন্ডিকেট। তাদের সংখ্যা মোট ৮জন। তারা মূলত একটি পিকআপ নিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে সিদ্ধান্ত নিতো। এরপর সুযোগ বুঝে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি করতো।
ওসি জাকারিয়া বলেন, তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের যে পরিশ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়েছে, তা বলে শেষ করা যাবেনা। তারপরও আমরা একটা আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে পেরেছি। যদিও এখনও দুই জন বাকি আছে। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। আর গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া যাদের গরু চুরি হয়েছে, সেই সকল ভূক্তভোগী কৃষকদের খবর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ -নাটোর-ময়মনসিংহ এবং বগুড়া কেন্দ্রিক কয়েকজন কুখ্যাত গরু চোর একত্রিত হয়ে এরাই বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি এবং ডাকাতি করে থাকে। নাটোরে গ্রেপ্তার হওয়া সুজিত ওরফে অজিত এবং সুচন্দন এলাকায় গরুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মূলত বিভিন্ন স্থান থেকে গরু চুরি ও ডাকাতি করে নিয়ে এসে কিছুদিন লালন-পালন করার পর বিক্রি করে দেয় তারা। এভাবেই তারা বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতি করে আসছে।
এসপি আরও বলেন, নওগাঁয় গরু চুরি পর প্রথম পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে তিনজন এবং আজ তিনজনসহ মোট ৬জন কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ গরু। এই গরু চোরদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।