প্রজন্মের আলো পাঠকদের জন্য কাঁঠালের বিচি দিয়ে কয়েকটি পদের রান্না নিয়েই আজকের এই ফিচার।
উপকরণ: মুরগির মাংস ১ কেজি, কাঁঠালের বিচি (আস্ত) ১০-১২টি, নারিকেলের দুধ ২ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, রসুন বাটা ১ চা-চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, গলুদ গুঁড়া আধা চা-চামচ, জিরা বাটা আধা চা-চামচ, দারুচিনি ২ টুকরা, এলাচ-৩-৪টি, তেজপাতা ২টি, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচ ৩-৪টি, লবণ স্বাদমতো এবং তেল প্রয়োজনমতো।
প্রস্তুত প্রণালী-: সসপ্যানে তেল গরম করে তাতে দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা দিয়ে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ একটু নরম হলে এতে রসুন বাটা, মরিচ গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, জিরা বাটা, লবণ দিয়ে একটু কষিয়ে মাংস ও কাঁঠালের বিচি দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। অল্প অল্প করে নারিকেলের দুধ দিয়ে কষিয়ে নিয়ে আধা কাপ গরম পানি ও বাকি দুধ দিয়ে ঢেকে দিন। কাঁঠালের বিচি সেদ্ধ হলে গরমমসলার গুঁড়া ও কাঁচা মরিচ দিয়ে নামিয়ে নিন।
কাঁঠালের বিচিতে মাংস খিচুড়ি
উপকরণ: কাঁঠালের বিচি ১০-১৫টি, পোলাওয়ের চাল ২ কাপ, ভাজা মুগ ডাল ১ কাপ, মসুর ডাল আধা কাপ, মাংস (গরু বা খাসি) ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদ গুঁড়া ১ চা-চামচ, দারুচিনি ৩ টুকরা, এলাচ ৪-৫টি, লবঙ্গ ৫-৬টি, গোলমরিচ ৭-৮টি, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, গরমমসলা ১ চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল প্রয়োজনমতো, ঘি ১ টেবিল চামচ, ইচ্ছা হলে পছন্দমতো সবজিও দেওয়া যেতে পারে।
প্রস্তুত প্রণালী- কাঁঠালের বিচি পরিষ্কার করে নিন। মাংস ছোট টুকরা করে কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সব উপকরণ থেকে পরিমাণমতো মসলা নিয়ে কাঁঠালের বিচি ও মাংস মেখে নিন। প্রেশারকুকারে ১ কাপ পানি দিয়ে মাংস ও বিচি দিয়ে ঢাকনা বন্ধ করে চুলায় বসান। ৪-৫টি হুইসেল দিলে নামিয়ে নিন। চাল ও ডাল ধুয়ে ডুবো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। সসপ্যানে তেল দিয়ে বাকি সব মসলা দিয়ে কষিয়ে চাল ও ডালের মিশ্রণ দিয়ে একটু কষিয়ে মিশ্রণের দেড় গুণ গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন। চাল ও পানি সমান হলে রান্না করা মাংস ও কাঁঠালের বিচি দিয়ে নেড়ে ঢেকে দিন। ঘি, কাঁচা মরিচ, গরমমসলার গুঁড়া দিয়ে ১৫-২০ মিনিট দমে রাখুন। চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
কাঁঠাল বিচির কাবাব
উপকরণ-
কাঁঠালের বিচি ১ কাপ, গরু বা খাসির কিমা ১ কাপ, ডিম ১টি, আদা বাটা ১ চা চামচ, রসুন বাটা আধা চা চামচ, কাবাব মসলা ১ চা চামচ, গরম মসলা ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, তেল পরিমাণমতো।
প্রস্তুত প্রণালী-
কাঁঠালের বিচি খোসা ফেলে ৩-৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে পাটায় ঘষে ওপরের লাল আবরণ পরিষ্কার করে নিন। কাঁঠালের বিচি সিদ্ধ করে বেটে নিন। কিমা আদা ও রসুন বাটা দিয়ে সিদ্ধ করে মিহি করে বেটে নিন। তেল ছাড়া সব উপকরণ একসঙ্গে মেখে গোলাকার চ্যাপ্টা কাবাব বানিয়ে ডুবো তেলে ভেজে তুলুন। সস বা চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
চিংড়ি ধুন্দল কারি-
উপকরণ-
ধুন্দল ৫০০ গ্রাম, কাঁঠাল বিচি ২৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ কুচি সিকি কাপ, হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ, মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, ধনে গুঁড়া ২ চা চামচ, আদা বাটা আধা চা চামচ, কাঁচা মরিচ ফালি ৫টি, লবণ স্বাদমতো, তেল ৩ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালী-
ধুন্দল খোসা ফেলে ধুয়ে কিউব করে কেটে নিন। চিংড়ি মাছ কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। কাঁঠালের বিচি পরিষ্কার করে কেটে নিন। কড়াইতে তেল দিয়ে গরম হলে পেঁয়াজ কুচি দিন। পেঁয়াজ কুচি গরম হলে সব মসলা আধা কাপ পানিতে গুলে দিয়ে দিন। মসলা কষানো হলে চিংড়ি মাছ কষিয়ে নিন। চিংড়ি মাছ কষানো হলে কাঁঠালের বিচি দিয়ে আধা কাপ পানি দিন। কাঁঠালের বিচি আধা সিদ্ধ হলে ধুন্দল দিন। চুলার আঁচ মাঝারি থেকেও কম রাখুন। ঢাকনা দেবেন না। আলাদা করে পানি লাগবে না। ধুন্দলের গায়ের পানিতেই মাখা মাখা তরকারি হবে। নামানোর আগে কাঁচা মরিচ ফালি দিয়ে নামিয়ে নিন।
সন্দেশ-
উপকরণ-
কাঁঠালের বিচি সিদ্ধ করে বেটে নেওয়া ১ কাপ, ছানা ১ কাপ, দুধ ২৫০ মিলি, কনডেন্সড মিল্ক ১ কাপ, এলাচ গুঁড়া হাফ কাপ, ঘি সিকি কাপ, পরিবেশনের জন্য বাদাম।
প্রস্তুত প্রণালী-
কাঁঠালের বিচির ওপরের খোসা ফেলে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ওপরের লাল আবরণ পরিষ্কার করুন। পানি দিয়ে পরিষ্কার করে ধুয়ে দুধ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। ঠাণ্ডা হলে শিল-পাটায় অথবা ব্লেন্ডারে মিহি করে বেটে নিন। ননস্টিক প্যানে ঘি দিয়ে কাঁঠালের বিচি বাটা কষিয়ে নিয়ে ছানা হাত দিয়ে ভেঙে দিন। নেড়েচেড়ে মিশিয়ে কনডেন্সড মিল্ক দিন। অনবরত নাড়ুন, তলায় যেন না ধরে যায়। এলাচ গুঁড়া দিয়ে দিন। আঠালো হয়ে প্যানের গা থেকে ছেড়ে এলে ঘি মাখা ট্রেতে ঢেলে সমান করে বিছিয়ে ইচ্ছামতো শেপে কেটে নিন। অথবা চাঁচে ঢেলে সন্দেশ বানিয়ে বাদাম দিয়ে পরিবেশন করুন।